আমার কাগজ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে দেশজুড়ে ফলাফল আসতে শুরু করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরের মেয়াদের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলের দিকে এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে পুরো বিশ্ব। কারণ, এই নির্বাচনের ফলের ওপরই নির্ভর করছে আগামী দুই বছর মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে এবং প্রেসিডেন্টের নীতি বাস্তবায়নের গতিপথ কেমন হবে।
এবারের নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ‘প্রতিনিধি পরিষদ’ বা হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর ৪৩৫টি আসনের সবগুলোতে এবং উচ্চকক্ষ ‘সিনেট’-এর ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে (৩৩টি নিয়মিত ও দুটি বিশেষ) ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদে এবং অসংখ্য স্থানীয় প্রশাসনিক পদেও জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করছেন মার্কিনিরা। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বর্তমান ক্ষমতাসীনদের হাতেই থাকবে, নাকি বিরোধীরা এর দখল নেবে তা নির্ধারণে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পরপরই প্রাথমিক ফলাফল বা বুথফেরত জরিপের তথ্য আসতে শুরু করেছে। তবে চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক ফলাফল পেতে বেশ কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। কারণ, নির্বাচনের দিন কেন্দ্রগুলোতে সরাসরি পড়া ভোটের পাশাপাশি এবার বিপুলসংখ্যক ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট (মেইল-ইন ভোট) এবং আগাম ভোট (আর্লি ভোটিং) গণনা করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী সব বৈধ ব্যালট সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই ও গণনা শেষেই আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচনী বিশ্লেষক ও দেশবাসীর মূল নজর এখন গুরুত্বপূর্ণ ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ বা দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোর দিকে। ফ্লোরিডা, পেনসিলভানিয়া, জর্জিয়া, মিশিগান, উইসকনসিন ও ওহাইওর মতো অঙ্গরাজ্যগুলোর ভোটের ফলই মূলত কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করে দেবে। এসব এলাকায় প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান খুব কম হওয়ায় প্রতিটি ভোটই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের কাজের মূল্যায়ন বা তাঁর প্রতি ভোটারদের সমর্থন যাচাইয়ের একটি বড় মাপকাঠি হিসেবে ধরা হয়। যদি কংগ্রেসের কোনো একটি বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাসীন দলের হাতছাড়া হয়, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য তাঁর মেয়াদের বাকি দুই বছরে নতুন কোনো আইন পাস, বাজেট অনুমোদন বা গুরুত্বপূর্ণ নীতি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসননীতি ও স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলো ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুধু জাতীয় রাজনীতি নয়, স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব নির্ধারণেও এই ফলাফল তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নর, মেয়র ও কাউন্টি কমিশনার নির্বাচনের পাশাপাশি করের হার, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নীতিসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরাসরি গণভোট বা ‘ব্যালট মেজার’-এর রায়ও এই ফলাফলের মাধ্যমে জানা যাবে। স্থানীয় এসব সিদ্ধান্ত সাধারণ মার্কিনিদের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
ভোট গণনা যত এগোচ্ছে, রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় শিবিরের মধ্যেই উত্তেজনা তত বাড়ছে। পুরো মার্কিন জাতি এখন চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে, যা দেশটির আগামী দিনের রাজনৈতিক গতিপথ নতুন করে নির্ধারণ করে দেবে।
