আমার কাগজ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হলেও এর প্রকৃত শর্তাবলি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর নেতারা এবং আন্তর্জাতিক মহল চুক্তির বিস্তারিত জানতে অপেক্ষা করছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভা হ্রদের তীরে অনুষ্ঠিত জি-৭ নেতাদের নৈশভোজে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তবে বৈঠক শেষে অনেক নেতা আগের মতোই চুক্তির প্রকৃত বিষয়বস্তু সম্পর্কে অনিশ্চিত থেকে যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। খবর সিএনএনের।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার (১৪ জুন) ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে বলে ঘোষণা দেন। কিন্তু দেড় পৃষ্ঠার ওই সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) পূর্ণাঙ্গ পাঠ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরান থেকে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে আসছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, সমঝোতা স্মারকটি মূলত একটি কাঠামোগত নথি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভবিষ্যতের কারিগরি আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের একজন জানিয়েছেন, চুক্তির পাঠ আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগেই প্রকাশ করা হতে পারে। তবে ট্রাম্প বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ নথি শুক্রবারের (১৯ জুন) আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রকাশ করা হবে।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সম্পূর্ণ টোলমুক্তভাবে পরিচালিত হবে।
কিন্তু ইরান জানিয়েছে, প্রণালিটির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে এবং প্রয়োজন হলে জাহাজ চলাচলের জন্য ফি আরোপ করা হতে পারে।
ভ্যান্সও স্বীকার করেছেন যে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং ভবিষ্যৎ আলোচনায় এটি নির্ধারণ করা হবে।
চুক্তির সবচেয়ে জটিল অংশগুলোর একটি হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। প্রায় এক হাজার পাউন্ড উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ, উন্নত সেন্ট্রিফিউজগুলোর ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের কাঠামো নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ইরান চুক্তির শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া হবে না।
তবে কর্মকর্তাদের কেউ কেউ ইঙ্গিত দিয়েছেন, আস্থা তৈরির অংশ হিসেবে কিছু সীমিত অর্থনৈতিক পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে ইরানের কিছু জব্দ সম্পদ মুক্ত করা এবং আংশিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয় থাকতে পারে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মঙ্গলবার কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করেছেন। এসব দেশ মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ইউরোপীয় নেতারা বলছেন, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত না জানা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বা মাইন অপসারণের মতো বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া কঠিন।
যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের পুনর্গঠনের জন্য প্রস্তাবিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিলে অর্থায়নে সহায়তা করবে।
চুক্তির গোপনীয়তা নিয়ে ট্রাম্পের কিছু সমর্থকও প্রশ্ন তুলেছেন।
রক্ষণশীল ভাষ্যকার মার্ক লেভিন সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, যদি এটি সত্যিই শান্তির জন্য একটি বড় অর্জন হয়, তাহলে জনগণের সামনে পুরো চুক্তিটি প্রকাশ করা হোক।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ না হওয়ায় বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির প্রশাসন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে এখনও স্পষ্টতা নেই।
ফলে বিশ্বনেতারা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
