আমার কাগজ ডেস্ক
লিবিয়ার প্রয়াত শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
লিবিয়ায় দায়িত্বরত আল-জাজিরার প্রতিনিধি আহমেদ খলিফা জানান, গত এক দশক ধরে সাইফ আল-ইসলাম দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে অবস্থান করছিলেন। সেখানেই তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল-ইসলামের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান। তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে বা কোন পরিস্থিতিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো অস্পষ্ট। লিবিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
পাশ্চাত্যে শিক্ষিত ও সুবক্তা হিসেবে পরিচিত সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি তার বাবার শাসনামলে লিবিয়ার দমনমূলক শাসনের একটি প্রগতিশীল মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ২০০০ সালের শুরুর দিক থেকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে লিবিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সাইফ ২০০৮ সালে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস (এলএসই) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল বিশ্ব শাসনের সংস্কারে নাগরিক সমাজের ভূমিকা।
২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের আগে সাইফ আল-ইসলামকে দেশটির দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ২০১১ সালে বিদ্রোহীরা গাদ্দাফিকে হত্যার পর সাইফ জিনতানে বন্দী হন। পরে সাধারণ ক্ষমার আওতায় ২০১৭ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পান। তবে মুক্তির পরেও তিনি জিনতান এলাকাতেই বসবাস করছিলেন। লিবিয়ার রাজনীতিতে প্রভাবশালী ও বিতর্কিত এই নেতার মৃত্যু দেশটির অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
