মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের সদর উপজেলায় একই ঘর থেকে এক প্রবাসী, তার স্ত্রী ও দেড় মাস বয়সি কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহী জান্নাথকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মৃতরা হলেন, ওই এলাকার নুরুল হকের ছেলে আকরাম হোসেন (৪০), তার দ্বিতীয় স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২২) এবং তাদের দেড় মাস বয়সি কন্যাশিশু।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আকরাম হোসেন দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি দেশে ফেরেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বের) দুপুরে পরিবারের সদস্যরা তাদের কোনো সাড়া না পেয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে ঘরে গিয়ে তিনজনের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
আকরামের স্বজন মামুনুর রশিদ বলেন, দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি আকরামের আত্মহত্যার খবর পান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান। তার ধারণা, পারিবারিক কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে আকরাম প্রথমে স্ত্রীকে আঘাত এবং পরে শিশুকে হত্যা করে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। আকরাম এর আগে দেশে এসে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করতেন। তবে এবার দেশে ফেরার পর প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি তেমন বাইরে বের হতেন না। তাঁর চলাফেরাও স্বাভাবিক মনে হয়নি বলে জানান তিনি।
স্থানীয় প্রতিবেশী মোহাম্মদ আবুল হাশেম বলেন, আকরাম ও তার দুই ভাই সৌদি আরবে থাকেন। তাদের জানামতে আকরাম ভালো মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তার কোনো ঋণগ্রস্ততার বিষয়ও তারা জানতেন না। বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল, তা তারা বুঝতে পারছেন না।
তিনি আরও বলেন, আকরাম একসময় দেশে অনেক কষ্ট করে কাজ করতেন। তবে বর্তমানে তার কোনো আর্থিক সমস্যার কথা তাদের জানা ছিল না।
স্থানীয়রা জানান, আকরাম ও প্রিয়াঙ্কা দুজনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। তাদের সংসারে দাম্পত্য কলহ ছিল কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন।
