কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রতিবেশী স্বামী-স্ত্রীর বাঁশের আঘাতে লিলি বেগম নামে এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ময়নাতদন্তের জন্য ২৫ জুলাই শনিবার সকালে কিশোরগঞ্জে সদর হাসপাতাল মরদেহ প্রেরণ করেছে ভৈরব থানা পুলিশ। এর আগে ২৪ জুলাই বিকালে পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া (গাইনহাটি) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লিলি বেগম জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া গাইনহাটি এলাকার মৃত সুরুত আলীর স্ত্রী ও হাজী ধন মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া।
অভিযুক্তরা একই এলাকার জাহাঙ্গীর মিয়া (৩৫) ও তার স্ত্রী লিমা বেগম (৩০)। জাহাঙ্গীর মিয়া ওই এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর জাহাঙ্গীর ও তার পরিবার বাড়িঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গিয়ে ঘা ডাকা দিয়েছে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৪ জুলাই বিকেলে বাড়ির উঠুন ঝাড়ু দিচ্ছিলেন ষাটোর্ধ্ব নারী লিলি বেগম। এসময় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর মিয়ার ১০ বছর বয়সী ছেলে আলিফ সাইকেল চালাচ্ছিলেন। সাইকেল চালালোর সময় আলিফ লিলি বেগমের শরীরে সাইকেল লাগিয়ে দিলে বিষয়টি নিয়ে আলিফের পরিবারের সাথে বাকবিতণ্ডা হয় লিলি বেগমের। একপর্যায়ে লিলি বেগমকে মারধর করে জাহাঙ্গীর মিয়া ও তার স্ত্রী লিমা বেগম। মারধরে বাঁশের একাধিক আঘাতে ও ইটের আঘাতে ঘটনাস্থলে অচেতন হয়ে পড়েন লিলি বেগম। স্থানীয়রা লিলি বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রতিবেশীরা বলেন, লিলি বেগম ও তার সন্তানরা এলাকার নিরীহ মানুষ। জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলের সাইকেল চালানোর ঘটনায় তর্ক-বিতর্কের মধ্যে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে ও ইট দিয়ে আঘাত করে লিলি বেগমকে হত্যা করেছে জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী।
আমরা প্রতিবেশীরা চাই জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারকে খুঁজে বের করে বিচার করা হোক।
তারা আরও বলেন, লিলি বেগমের স্বামী মারা গেছে তিন সন্তান রেখে। মেয়ে দুইটার বিয়ের বয়স হয়েছে। একমাত্র ছেলে মানুষিক প্রতিবন্ধী। লিলি বেগম মানুষের বাড়িতে কাজ করে তাদের সংসার চালাতো।
এ বিষয়ে নিহতের মেয়ে সৌরভি বলেন, আমার মা আমাদের লালন পালন করতেন। আমাদের এখন কী হবে। আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। জাহাঙ্গীর আমাদের এতিম করে দিয়েছে।
এ বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি লিমন বোস বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়িঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
