চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত মনির হোসেনকে (৩২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন।
ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। ঘটনার ২৫ দিনের মধ্যে বুধবার আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করা হল।’
গত ৯ জুন এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে আসামি মনির হোসেনের বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা। ১০ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তিন কার্যদিবসের মধ্যে বাদী, ভুক্তভোগী, চিকিৎসকসহ মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়। গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষে যুক্তি তর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে। এর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ তদন্তের পর ৪ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। সেখানে আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯ (১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। শিশুটির ডিএনএ রিপোর্ট গ্রহণ এবং ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি ও ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত ২১ মে বিকেলে নগরের বাকলিয়া এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে আটক করে। থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে উত্তেজিত জনতা ও স্থানীয়রা। বিক্ষুব্ধরা দ্রুত সময়ের মধ্যে মনির হোসেনের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সেসময় বিক্ষোভও করেন। গত ২২ মে বিকেলে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় মনির হোসেন।
মনির হোসেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকার মিয়াখান নগরে ভাড়া থাকতেন এবং একটি ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
