ফেনী প্রতিনিধি
ফেনী আলিয়া কামিল মাদরাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হাসানের পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় তার ফেরাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে মাদরাসায় এসে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন মাহমুদুল হাসান। এসময় তার সঙ্গে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঞা, দাতা সদস্য নোমান শিকদার এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাঈদুর রহমান জুয়েলসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে যোগদানপত্র জমা দেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু হানিফা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ফেনী আলিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগের বিষয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়। ওইদিন রাতেই মাওলানা মাহমুদুল হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ডে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে, যা ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বেসরকারি মাদরাসাসমূহের চাকরির শর্তাবলির আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
তদন্ত কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ফাতিমা সুলতানা আহ্বায়ক এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরীন কান্তা ও সহকারী কমিশনার ফাহমিদা সুলতানা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ফাতিমা সুলতানা বলেন, মাহমুদুল হাসান পুনরায় যোগদানের জন্য জেলা প্রশাসক ও গভর্নিং বডির সভাপতির কাছে আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলাগুলোতে জামিনের কাগজপত্রও জমা দিয়েছেন। উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
মাদরাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি মুফতি আবদুল হান্নান বলেন, মাহমুদুল হাসানের পুনরায় যোগদানের বিষয়ে তিনি অবগত নন।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়া বরখাস্ত হওয়া একজন অধ্যক্ষ কীভাবে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন, সেটি বড় প্রশ্ন। তিনি বিষয়টির স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেন।
