ফেনী প্রতিনিধি
টেকসই বাঁধের আশায় পরশুরাম- ফুলগাজীর মানুষ, প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর আজ, পরশুরামে উদ্বোধন হবে ১,৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনী সফরে আসছেন তারেক রহমান। দিনব্যাপী সফরে তিনি পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এর মধ্যে পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে ঢাকার বাসভবন থেকে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হবেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছে প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। পরে দুপুর সোয়া ১টার দিকে পরশুরাম থেকে ফুলগাজীর উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
পরশুরামে উদ্বোধন হতে যাওয়া প্রকল্পটি ফেনীর নদীপারের মানুষের দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উদ্যোগ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ফেনী জেলার নদী ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
পরশুরামের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে যাবেন। সেখানে বেলা সাড়ে ১টার দিকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বেলা ২টার দিকে ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় গিয়ে সরকারি ভবনের ছাদে স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
ফেনীর পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনগুলোতে মোট ৯৬২ কিলোওয়াট, অর্থাৎ প্রায় ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫, পরশুরামে ২৯৮ এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেম রয়েছে।
বিকেল ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বিকেল ৫টার দিকে সড়কপথে ফেনী ত্যাগ করে রাত ৯টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময়সূচি রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে পরশুরাম ও ফুলগাজীতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পরশুরাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়েছে। ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে অনুষ্ঠানের অবকাঠামো, মঞ্চ ও উদ্বোধনী ফলক প্রস্তুত করা হয়েছে। সভাস্থলে বিশুদ্ধ পানি, পানির ট্যাংক, পোর্টেবল টয়লেট ও স্যানিটেশন ব্যবস্থারও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিভিন্ন অংশে সংস্কারকাজ করা হয়েছে।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে পরশুরাম ও ফুলগাজীর কর্মসূচিস্থলগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট—এই তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। নিরাপত্তা প্রস্তুতি পরিদর্শনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন ভেন্যু পরিদর্শন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে তাই একদিকে যেমন প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা, অন্যদিকে তেমনি বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে নদীপারের মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা কতটা কমে আসে—এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।
