গাজীপুর প্রতিনিধি
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, অতীতে এত বিপুল সংখ্যক সামরিক সদস্য নির্বাচনে মোতায়েন হয়নি। আমরা একটা সুন্দর নির্বাচন করার জন্য সক্ষম। নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুর আর্মি ক্যাম্পে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে তিন বাহিনীর প্রধানদের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সেনাপ্রধান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১ লাখের ওপর সেনাবাহিনীর সদস্য, বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন সদস্য এবং নৌবাহিনীর ৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও পুলিশ, আনসার (৬ লাখ), র্যাব, বিজিবি এবং সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সবাই মিলে কাজ করবে।
তিনি বলেন, জেলায় নির্বাচন করার দায়িত্ব হচ্ছে ডিসি মহোদয়ের। জেলায় ওভারঅল নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব পুলিশ সুপারের। আমরা আপনাদের সহায়তার জন্য মোতায়েন হয়েছি।
সেনাপ্রধান বলেন, আমাদের তিন বাহিনীর সবার এখানে উপস্থিতির কারণ একটাই, দুটো কারণ বেসিক্যালি। প্রথমত হচ্ছে- আপনাদের নিশ্চিত করা যে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে যত ধরনের সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজন হবে ইনশাআল্লাহ আমরা সেটা দেব। দ্বিতীয়ত হচ্ছে- এ ধরনের মতবিনিময় সভা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে আমরা ভোটারদের, দেশ, জাতিকে একটা মেসেজ দিতে চাই এবং আমরা একটা সুন্দর নির্বাচন করার জন্য সক্ষম। সবাই আগ্রহী, নির্বাচন কমিশন আগ্রহী, সরকার আগ্রহী, আপনার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আগ্রহী, পুলিশ আগ্রহী, সেনাবাহিনী আগ্রহী, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী সবাই। সেখানে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অতীতে এত বিপুল সংখ্যক সামরিক সদস্য নির্বাচনে মোতায়েন হয়নি। আমার জানা মতে হয়নি।
তিনি আরও বলেন, আমরা রোবাস্ট পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখবো। যদি পুলিশের স্ট্যাটিক ডিউটির পরে সেনা সদস্য ঘাটতি হয়, আমরা সেটা পূরণ করবো। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে যত ধরনের সাহায্য সহযোগিতা প্রয়োজন তা করবো। ভোটারদের আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। ইনশাআল্লাহ আমরা একটা সুন্দর, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি।
ড্রোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, আমরা ইনশাআল্লাহ ড্রোন ব্যবহার করব। পুলিশেরও ড্রোন আছে, আমাদেরও ড্রোন আছে। ড্রোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ওপর তিনি জোর দেন।
টেকনোলজির ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, এবার টেকনোলজি ব্যবহার করছে, বডি ক্যামেরা কেনা হয়েছে, এবার সুরক্ষা অ্যাপস ইন্ট্রোডিউস করা হয়েছে। থ্যাঙ্কস টু এনটিএমসি তারা এটা করেছে। তো এখন এই আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করার কাজটা সহজ হয়ে যাবে। পোলিং স্টেশনে কী হচ্ছে ইউ ক্যান সি।
অর্থের লেনদেন এবং ভুয়া তথ্য প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, কিছু মানি ট্রানজেকশন হতে পারে বিকাশের মাধ্যমে, সেটা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য অর্থের লেনদেন ইত্যাদি। নির্বাচন কমিশনের সাথে কথা বলেছি, তারা এটা নজরদারির মধ্যে আনবে। বিকাশের ট্রানজেকশন এবং এটা একটা সীমিত করে একটা লিমিট করে সেটা অবশ্যই আমাদেরকে সহায়তা করবে এই কাজে।
সাংবাদিক এবং পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার মিডিয়ার ভাইবোনেরা আছেন, তারা খবর সংগ্রহ করতে চান। উনাদেরকে সঠিক তথ্য দিতে হবে এবং এই সমস্ত সেন্টারের মাধ্যমে যদি দেওয়া হয়, এটা বেস্ট। অনুরোধ করব টাইম টু টাইম উনাদেরকে আপ টু ডেট রাখা। কারণ উনাদের মাধ্যমে এই খবরগুলো জনগণের কাছে পৌঁছে যায়।
