আলি জামশেদ
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় একদিনের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া দুটি পৃথক ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত এক মাদকাসক্ত আসামি থানা হাজতে আত্মহত্যা করেছেন। অন্যদিকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর নদীসংলগ্ন হাওর থেকে এক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা গেছে, নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের শসরমূল এলাকার রাজা হাওলাদারের ছেলে রুবেল মিয়া (২১) দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, মাদকের নেশায় জড়িয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রায়ই দুর্ব্যবহার করতেন। একপর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে তার বাবা রাজা হাওলাদার একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৯ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে রুবেলকে শসরমূল গ্রাম থেকে আটক করে নিকলী থানা হাজতে রাখা হয়। থানা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আনুমানিক দুই ঘণ্টার মধ্যে, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে তিনি নিজের পরিধান করা শার্ট খুলে হাজতখানার ভেন্টিলেটরের রডে পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।
থানা কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, প্রায় এক বছর আগে একটি মাদক মামলায় রুবেল সাড়ে তিন মাস কারাগারে ছিলেন। মাদকের টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে পৃথক আরেক ঘটনায়, গত ৮ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে নিকলী উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের পূর্ব টেংগুরিয়া গ্রামের শাহজাহান মিয়ার কন্যা শান্তনা নিখোঁজ হয়। পরে রাত ৯টার দিকে শিশুটির বাবা নিকলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরদিন ৯ জুলাই সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পাশের ধনু নদী-সংযুক্ত হাওরে শিশুটির ভাসমান মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে এলাকাবাসী মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাগর বিশ্বাস।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, পিতার দায়ের করা মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে রুবেলকে গ্রেফতার করে থানা হাজতে রাখা হয়েছিল। একপর্যায়ে তিনি পরিধান করা শার্ট খুলে ভেন্টিলেটরের রডে পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
সচেতন মহলের দাবি বর্ষা মৌসুমে নদী, খাল, বিল ও হাওরের পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এ সময় শিশুদের একা পানির ধারে যেতে না দেওয়া, পরিবারের সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা এবং স্থানীয়ভাবে জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই সবাইকে আরও সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান তাদের।
