বিনোদন ডেস্ক
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন বয়ে এনেছে রুবাইয়াৎ হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রায় চার দশকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো চলচ্চিত্র এর মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে।
বাংলাদেশ, ফ্রান্স, পর্তুগাল, নরওয়ে ও জার্মানির যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই ছবিটি আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর (২০২৬) পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য ৩৯তম আসরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিত্ব করবে। বৃহস্পতিবার টোকিওর স্পাইরাল হলে উৎসবের পূর্ণাঙ্গ আয়োজনের পাশাপাশি এই প্রতিযোগিতা বিভাগের চলচ্চিত্রের নাম ঘোষণা করা হয়।
রুবাইয়াৎ হোসেনের চতুর্থ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর গল্প গড়ে উঠেছে ঢাকার এক হবু কনেকে কেন্দ্র করে। বিয়ের প্রস্তুতি, সৌন্দর্যচর্চা, পারিবারিক প্রত্যাশা ও সামাজিক নিয়মের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া এক নারীর শরীর ও মনের জটিল অভিজ্ঞতা এতে সুনিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
বাস্তবতার সঙ্গে স্বপ্ন, ভয়, স্মৃতি ও অলৌকিকতার মিশেলে ছবিটি নারীর শরীর, ব্যক্তিগত ইচ্ছা এবং বিয়েকে ঘিরে প্রচলিত বৈষম্যমূলক সামাজিক রীতিনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এর আগে মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস ও টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও অংশ নিয়ে প্রশংসিত হয়েছে ছবিটি।
উৎসবের এবারের আসরটি কলেবরে আরও বড় হচ্ছে, যেখানে গত বছরের চেয়ে বেশি মোট ২০৪টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। এর মধ্যে ১১২টি দেশ ও অঞ্চল থেকে জমা পড়া ১ হাজার ৮৯২টি ছবির মধ্য থেকে বাছাই করে মূল প্রতিযোগিতার জন্য মাত্র ১৫টি চলচ্চিত্র নির্বাচন করা হয়েছে।
এই বিভাগে বাংলাদেশের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর পাশাপাশি চীন, ইন্দোনেশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, আর্জেন্টিনা, রোমানিয়া, ইতালি, ইরানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্বকারী চলচ্চিত্রগুলো লড়বে।
উৎসবের প্রোগ্রামিং ডিরেক্টর ইচিয়ামা শোজো জানান, বর্তমানের মেরুকরণ ও সংকটের সময়ে নির্মাতারা কেবল নস্টালজিয়া থেকে নয়, বরং বর্তমানকে বোঝার জন্যই অতীতের দিকে ফিরে তাকাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতা বিভাগের জুরিবোর্ডের নেতৃত্ব দেবেন চার দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করা অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়াভিত্তিক প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা রলফ ডি হিয়ার। তার সঙ্গে বিচারকের আসনে থাকবেন টোকিও ও নিউইয়র্কভিত্তিক প্রযোজক অ্যালেক্স লো, কোরীয় প্রযোজক ওহ জংওয়ান, ডিআই কালারিস্ট ইয়োভ মুর এবং জাপানি অভিনেত্রী ওয়াতানাবে মাকিকো।
সব মিলিয়ে টোকিও উৎসবের এই মূল প্রতিযোগিতায় রুবাইয়াৎ হোসেনের ছবির নির্বাচন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক যাত্রায় এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করল।
