বিশেষ প্রতিনিধি
পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা তৈরি হয় কাজের মাধ্যমে। সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে পুলিশ যেভাবে তদন্ত করে, নিজ বাহিনীর প্রভাবশালী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও একই পেশাদারিত্ব ও দৃঢ়তা দেখানো প্রয়োজন। এই জায়গায় নেতৃত্বের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি।
অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন ভাড়া দেওয়া বাড়িতে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানের পর তাকে পুলিশ সদর দপ্তরের হেডকোয়ার্টার্স শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে। আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের স্বাক্ষরিত আদেশে নেওয়া এই প্রশাসনিক শুদ্ধি কার্যক্রম পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল ও সচেতন মহল। এটি জবাবদিহির পথে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ।
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পত্তিতে অভিযান এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা পৌঁছে দেয়: অভিযোগের মুখে পদমর্যাদা কাউকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখতে পারে না। পুলিশের দায়িত্ব আইন প্রয়োগ করা। সেই দায়িত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে নিজেদের ক্ষেত্রেও আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তারা। নিজের প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ওঠা অভিযোগের মুখোমুখি হওয়া, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং তদন্তের সুযোগ তৈরি করা দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয়। এমন সিদ্ধান্ত সৎ কর্মকর্তাদেরও ভরসা দেয় যে পেশাগত সততা ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদার গুরুত্ব রয়েছে।
তবে এই উদ্যোগের পূর্ণ সাফল্য নির্ভর করবে পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর। সংশ্লিষ্ট বাড়িতে কী ঘটেছে, কার কী ভূমিকা ছিল, কার প্রশ্রয়ে সে এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল,তার পরিধি কতটুকু এবং অপরাধের সঙ্গে কারও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, সেসব নিরপেক্ষ তদন্তে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
ন্যায়বিচারের দাবি হলো, অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ শাস্তি হবে; একই সঙ্গে কাউকে প্রমাণ ছাড়া অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে না। এই নীতি অনুসরণ করেই একটি তদন্ত গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে। আমরা চাই, আইজিপির নেতৃত্বে পুরো প্রক্রিয়াটি হোক পেশাদার, স্বচ্ছ এবং প্রভাবমুক্ত।
বাংলাদেশ পুলিশের অসংখ্য সদস্য প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেন। মানুষের বিপদে এগিয়ে যান, অপরাধ প্রতিরোধ করেন এবং পরিবার থেকে দূরে থেকেও কর্তব্য পালন করেন। তাঁদের শ্রম ও আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষার জন্যও বাহিনীর ভেতরে অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা জরুরি। কোনো ব্যক্তির দায় প্রমাণিত হলে সেই দায় নির্ধারণের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষা পায়।
আইজিপি আলী হোসেন ফকির, আপনার কাছে সচেতন মহলের প্রত্যাশা, এই জবাবদিহির চর্চা নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। বদলি, পদায়ন, পদোন্নতি, ক্রয় এবং কল্যাণমূলক কার্যক্রমসহ পুলিশের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়ুক। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা জানানোর নিরাপদ সুযোগ থাকুক এবং অভিযোগকারী যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা হোক।
সৎ কর্মকর্তারা যেন যোগ্যতা ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি পান। সাধারণ মানুষ যেন থানায় গিয়ে সম্মান, সহযোগিতা ও ন্যায়সংগত সেবা পান। তদন্তের ফলাফল সম্পর্কে আইনসম্মত সীমার মধ্যে জনগণকে জানানো হোক। এভাবেই প্রতিটি ভালো সিদ্ধান্ত মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতায় পরিবর্তন আনতে পারে।
সচেতন মহলের বলছেন, আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের নেতৃত্বে নেওয়া ন্যায়সংগত ও সাহসী উদ্যোগের প্রতি তাদের সমর্থন থাকবে। এই পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় এমন একটি পুলিশ বাহিনী গড়ে উঠুক, যার সদস্যরা দায়িত্ব পালনে আত্মবিশ্বাসী হবেন এবং যার কাছে গিয়ে সাধারণ মানুষ নিরাপদ বোধ করবেন।
আইনের সমান প্রয়োগ, সৎ কর্মকর্তাদের মর্যাদা এবং জনগণের আস্থা প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাবেন, আইজিপি আলী হোসেন ফকির।
