আমার কাগজ প্রতিবেদক
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে রাজধানীসহ সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এবার পুজাকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। ফলে টানা উৎসবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ মিলেনি। বরং সাম্প্রদায়িতক সম্প্রীতির বারতা মিলেছে।
বিকেলে শঙ্খনাদ, উলুধ্বনি, ঢাকের বাদ্য আর চারদিকে ভক্তদের ‘বলো দুগ্গা মাই কি জয়’ ধ্বনির মধ্য দিয়ে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভ‚তিতে শুরু হয় দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা। বিকাল ৪টায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির (পলাশী মোড়) থেকে এ যাত্রা শুরু হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন মÐপ থেকে আসা প্রতিমা নিয়ে জগন্নাথ হল, দোয়েল চত্বর, গুলিস্তান মোড়, নবাবপুর রোড ও রায়সাহেব বাজার হয়ে বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটে গিয়ে এই শোভাযাত্রা শেষ হওয়ার কথা।
এর আগে সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দেবীর চরণে শেষ অর্ঘ্য নিবেদন করেন ভক্তরা। এরপর দর্পণ বিসর্জন ও ঘট বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা।
দেবীকে সিঁদুর দিয়ে বরণ আর সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন ভক্তরা। আনন্দের আড়ালে বিদায়ের বিষাদ। আবার এক বছর পর দেবীর আগমনের প্রত্যাশা। সব মিলিয়ে মন্দিরজুড়ে ছিল আবেগঘন পরিবেশ।
সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ভক্তদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রদীপ জ্বালিয়ে, ধূপ-ফুল, বেলপাতাসহ বিভিন্ন উপাচারে দেবীর চরণে শেষবারের মতো অর্ঘ্য নিবেদন করেন তারা। প্রার্থনায় উঠে আসে পরিবার-পরিজনের মঙ্গল, সবার সুস্থতা ও দেশের শান্তি-সমৃদ্ধির কামনা।
হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার দিন ‘কন্যারূপে’ মর্ত্যে আসা দেবী দুর্গা টানা পাঁচ দিনের পূজার পর দশমীর দিন পিতৃগৃহ ছেড়ে কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে যান। অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে দেবীর এই বিজয়ের কারণে দিনটি ‘শুভ বিজয়া’ হিসেবে উদযাপিত হলেও বিদায়বেলায় ভক্তদের হৃদয় বিষাদে আপ্লæত হয়।
মহালয়ার মধ্য দিয়ে গত ১০ অক্টোবর এবারের দুর্গোৎসবের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছিল। ওই দিন থেকেই দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হয়। এরপর গত শুক্রবার মহাষষ্ঠী থেকে ছয় দিনের যে দুর্গোৎসব শুরু হয়েছিল, প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এ আয়োজন শেষ হলো। এবার সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মÐপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা মহানগরে পূজামÐপের সংখ্যা ২৫৮টি।
