আমার কাগজ প্রতিবেদক
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, সে সিদ্ধান্ত সরকার নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। এই নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে ইসি ‘একক কোনো এখতিয়ার নেই’ জানিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, এই ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ইসিকে সরকারের সাথে আলোচনা ও সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকার সিদ্ধান্ত নেবে কবে নাগাদ নির্বাচন করবে। একটা টাইমলাইন তো আপনাদের কাছে জানানো হয়েছে মোটামুটি, সো এটাকে ফলো করে সরকার নির্বাচন কমিশনের সাথে কোলাবোরেট করে নির্বাচনে যাবে। নির্বাচন তো করবেই, নির্বাচন তো হবেই, এটা নিয়ে তো কোনো কনফিউশনের কিছু নেই।
মঙ্গলবার সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে কথা বলছিলেন তথ্য উপদেষ্টা।
চলতি বছরের ১২ নভেম্বর থেতে সাত ধাপে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মঙ্গলবার বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদের ভোটের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার ‘কিছুই জানে না’।
এ বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে কেবল দুটি নির্বাচনের জন্য সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত—রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং সংসদ নির্বাচন। অন্যান্য যত স্থানীয় নির্বাচন রয়েছে, সেগুলো নির্বাচন কমিশনকে সরকারের সঙ্গে কোলাবোরেট করেই করতে হবে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, প্রতিমন্ত্রী যেহেতু জানিয়েছেন যে এ বিষয়ে সরকারের কাছে এখনও তথ্য নেই, তাই সরকারের এই বক্তব্যকেই ‘সঠিক ধরে নিতে হবে’। এবং উনিই জানেন যে সরকারের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়নি। আমি আবারও বলছি, এই নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের সাথে কোলাবোরেট করে করতে হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসির ঘোষিত তারিখ চূড়ান্ত কি না বা নির্বাচন পেছাবে নাকি এগোবে, তা আলোচনার বিষয়। তবে বিষয়টিকে কোনো সরকারের সঙ্গে ইসির সংঘাত হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রকৃতি কেমন হবে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, এবার স্থানীয় নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল সরাসরি অংশ নিচ্ছে না, নির্বাচন সম্পূর্ণ ব্যক্তিভিত্তিক হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের নির্বাচনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময় স্থানীয় সরকারের প্রধান পদগুলোতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হত। তবে আগামী লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশনে কোনো দল সরাসরি অংশ নিচ্ছে না, এখানে প্রার্থীরা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য নিয়ে নির্বাচন করবেন। ফলে কে কোনো দলের তা মুখ্য নয়।
উন্মুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থাকায় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হতে বাধ্য এবং এতে অতীতের মতো সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ ফিরে আসবে বলেও আশা করেন জাহেদ উর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।
