চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি নগরীর আকবর শাহ থানা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক বলে জানা গেছে।
সোমবার (১১ মে) রাত সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর বিএসআরএম ডিপো সংলগ্ন ফ্লাইওভার থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত কাউসার রাউজান উপজেলার উরকিরচর এলাকায় আবুল কাশেমর ছেলে।
এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক কয়েকজন নেতা মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে ফেসবুকে দাবি করেছেন, কাউসারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে হত্যার দাবিকে গুজব বলছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তাদের ধারণা কাউসার আত্মহত্যা করেছেন।
পাহাড়তলী থানার এসআই মাসুদুর রহমান বলেন, নিহত ব্যক্তি বিএসআরএমে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জেনেছে, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন।
তিনি বলেন, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তারপরও নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
মাসুদুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তার অনেকগুলোই ‘প্রপাগান্ডা’। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, কাউসারকে অপহরণের পর হত্যা করে ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা তালুকদার পারভেজ আনসারী অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা ছাত্রলীগ করার কারণে কাউসারকে অপহরণ করে হত্যা করেছে। পরে তার মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়।’
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
