আমার কাগজ প্রতিবেদক
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান হবে।
বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন হবে। এ নির্বাচনে প্রার্থী রয়েছেন বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ১১ দলীয় ঐক্যের অলি আহমদ।
বুধবার সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, “আগামী ২১ অগাস্ট সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমাদের দিক থেকে প্রস্তুতিতে কোনো অসুবিধা নেই।”
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজের কার্যালয়ে নির্বাচনি কর্তা ও সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন ব্রিফিংয়ে বলেন, তাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ভোট হবে।
“ভোট শেষেই সংসদ কক্ষে ফলাফল ঘোষণা করবো আমি। এরপরই ভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।”
সংসদ সচিব মো. গোলাম সারওয়ার ভূঁইয়া বলেন, রাষ্ট্রপতির শপথের আয়োজন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ করবে, সংসদ সচিবালয় নয়।
নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের যেসব তথ্য দেওয়ার কথা ছিল, সেগুলো দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত তারা যা চেয়েছে, সব ঠিকঠাক আছে। কোনো সমস্যা নেই।”
এবার ৩৪৯ জন ভোটার রয়েছে। এরমধ্যে বিএনপির ২৪৭ জন, জামায়াতের ৭৭ জন এবং প্রতিনিধিত্বকারী বাকি দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ভোটার রয়েছে।
৩৫ বছর পর সংসদ অধিবেশন কক্ষে ভোটাভুটি হতে যাচ্ছে। এ জন্য বৈঠক আহ্বান করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন; যিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ‘নির্বাচনি কর্তা’।
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী এ ভোট হচ্ছে।
নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচনি কর্তাকে সহায়তায় ইসির ২০ জন সহায়ক কর্মকর্তা থাকবেন, সঙ্গে সংসদ সচিবালয়ের প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা নিয়েজিত হবেন।
চার নির্বাচন কমিশনারও ভোট দেখতে সংসদে যাওয়ার কথা রয়েছে।
সংসদীয় ব্যবস্থা ফেরার পর দুই প্রার্থী থাকায় ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাভুটি হয়। গেল সাত বার একক প্রার্থী থাকায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনীত করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি; সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুবাদে তিনিই হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের তেইশতম রাষ্ট্রপ্রধান।
গেল ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মেয়াদের পৌনে দুই বছর বাকি থাকতে পদত্যাগ করেন। এ পদে দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
