আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চীনা জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান চাও ল্য চি, ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার), হাইনান প্রদেশে, ২০২৬ বোয়াও এশিয়া ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সম্মেলনে ‘সঠিক পথ অনুসরণ করে একসাথে সুন্দর ভবিষ্যত গড়া’ শিরোনামে একটি ভাষণ দেন।
অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং, আজারবাইজানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সাহিবা গাফারোভা, শ্রীলঙ্কার সংসদ স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেয়ারদেনা, কাজাখস্তানের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী রোমান স্ক্লিয়ার এবং ফোরামের চেয়ারম্যান বান কি মুনসহ ৬০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১৬০০জনের বেশি প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
চাও লি চি বলেন, এ বছর ফোরাম প্রতিষ্ঠার ২৫তম বার্ষিকী। গত ২৫ বছরে ফোরামটি এশিয়াকে ভিত্তি করে বিশ্বমুখী হয়েছে, সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদার করেছে এবং বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তুলেছে। এটি এশিয়া ও বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শিক্ষা, ঐক্য, সহযোগিতা ও যৌথ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বর্তমান বিশ্বে শান্তি ও উন্নয়নের প্রতি মানুষের আকাঙ্ক্ষা আরও তীব্র হয়েছে এবং ন্যায়বিচারের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। এবারের সম্মেলনের থিম “অভিন্ন ভবিষ্যৎ গঠন: নতুন পরিস্থিতি, নতুন সুযোগ, নতুন সহযোগিতা”—যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
চাও ল্য চি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ব, যুগ ও ইতিহাসের পরিবর্তনের মুখে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সমাজ নির্মাণের ধারণা এবং বৈশ্বিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা, সভ্যতা ও শাসন উদ্যোগ প্রস্তাব করেছেন, যা বিশ্বের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমাদের উচিত শান্তি, উন্নয়ন, সহযোগিতা ও পারস্পরিক লাভের ধারার সাথে সামঞ্জস্য রেখে, এশিয়ার উন্নয়ন সাধন করা এবং যৌথভাবে মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গড়ে তোলা। সংঘাত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা পরিহার করে, শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ, বন্ধনহীনতা পরিহার করে সহযোগিতামূলক ভবিষ্যৎ, শক্তির আধিপত্য পরিহার করে ন্যায়ভিত্তিক ভবিষ্যৎ, এবং অবিশ্বাস পরিহার করে পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, চীন সবসময় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনজীবনের মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নিজস্ব উন্নয়নের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী যৌথ উন্নয়নকে এগিয়ে নিচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে চীনের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ স্থিতিশীল রয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। “পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা” আগামী পাঁচ বছরের জাতীয় উন্নয়নের প্রধান লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেছে।
তিনি বলেন, চীন নতুন উন্নয়ন ধারণা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করবে, নতুন উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তুলবে, উচ্চমানের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং আরও উচ্চস্তরের উন্মুক্ততা সম্প্রসারণ করবে, যাতে বিশ্বের দেশগুলো একসাথে সুযোগ ভাগ করে নিতে পারে। দেশটি অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি করে বৃহৎ বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাবে, উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াবে, মুক্ত বাণিজ্যকে এগিয়ে নেবে এবং আইনের শাসন জোরদার করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নত করবে।
তিনি বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের চীনা বাজারে বিনিয়োগ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান এবং বলেন, চীন দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে থাকবে।
সূত্র:শিশির-আলিম-আনন্দী,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
