এ টি এম মোস্তফা কামাল
১৯৫০-৬০ এর দশকে গ্রামীণ লোকজন সুদী মহাজনদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হতো। সাধারণতঃ স্বর্ণালংকার কিংবা জমি বন্ধক রেখে এরূপ ঋণ নেয়া হোত। সাদা কাগজে সই রেখে মহাজন এরূপ ঋণ প্রদান করতো। উচ্চ সুদের মারপ্যাচে ফেলে কিভাবে বন্ধকী সম্পত্তি কিংবা স্বর্ণালংকার নিজস্ব মালিকানায় নিয়ে নেয়া যায় সেদিকে অত্যন্ত কৌশলী নজর থাকতো গ্রাম্য মহাজনের। সহজ সরল গ্রামীন জনসাধারণের সুদের হিসাব নিকাশের ব্যাপারে কোন ধারণাই ছিলো না। তাঁরা অন্ধের মতো মহাজনের কথায় বিশ্বাস করতো। মহাজনের চাহিদা মতো সুদে আসলে ঋণের অর্থ পরিশোধ করার কোন আয় রোজগার গ্রামীণ জনসাধারণের ছিলো না। তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে বন্ধকী স্বর্ণালংকার/ সম্পত্তির বিনিময়ে ঋণ পরিশোধ করতে সহজ সরল লোকজন বাধ্য হোত।
স্বাধীনতার পরে গ্রামীণ ব্যাংক ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। বড় ছোট সকল এনজিও ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবসায় এর সংগে যুক্ত হয়। এই ব্যবসাটা অত্যন্ত লাভজনক বিধায় এনজিও-গুলো তাঁদের কর্মীদের মাধ্যমে সেধে সেধে সহজ সরল নিরীহ/নিঃস্ব সহায় সম্বলহীন লোকদের মাঝে ঋণ বিতরণ করে থাকে। কিন্তু মাসিক কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে পড়ে প্রচণ্ড বিপাকে। কিস্তির টাকা আদায়ে কোন ছাড় নেই । ৩০ জনের মতো মহিলার গ্রুপ করে পুরো গ্রুপ একত্রে গিয়ে কিস্তি পরিশোধের নিয়ম ও কোন কোন ক্ষেত্রে চালু রয়েছে- একজন ও অনুপস্থিত থাকলে চলবে না। কিস্তির টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ঋণ দাতা প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত কঠোর এবং নিষ্ঠুর। তাঁদের কিস্তির টাকা পরিশোধের চাপ সইতে না পেরে বাংলার অনেক পরিবার ছেলে/মেয়েকে হত্যা করে নিজেরা আত্বহত্যা করে চলেছে। এর অনেক নজীর রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার/ রায়পুরা থানার একটা পরিবার ৫/৬ টা এনজিও থেকে কয়েক লক্ষ টাকা ঋণ নেয়- পরিবারের মহিলা সদস্য কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে তার স্বামীকে সৌদী আরবে পাঠায়। স্বামী মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা পাঠাতে পারে- কিন্তু সে টাকা দিয়ে কিস্তির টাকাই পরিশোধ করা সম্ভব হয় না- তার উপর রয়েছে পরিবারের মাসিক খরচ চালানোর বোঝা- প্রতিদিন যখন ৫/৬ টা এনজিও এর কর্মী এসে কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ দিতে থাকে তখন মহিলা বেসামাল হয়ে পড়ে- এক পর্যায়ে নিজের দুই শিশু সন্তানকে হত্যা করে নিজে আত্বহত্যা করে। প্রথম আলোতে খবরটা প্রকাশিত হয়েছিল।
২০২৬ সালের জানুয়ারী/ফেব্রুয়ারী মাসেই খোদ রাজধানীর মোহাম্মদপুর/ মীরপুরে দুই সন্তানকে হত্যা করে স্বামী এবং স্ত্রী ফ্যানে ঝুলে আত্বহত্যা করে- এই ঘটনার পেছনে ও সমিতি থেকে নেয়া ক্ষুদ্র ঋণ জড়িত।
বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ঋণের সুদের হার হচ্ছে ১৫ শতাংশ – আর কিস্তি পরিশোধ করা হয়ে থাকে বাৎসরিকভিত্তিতে। আর ক্ষুদ্র ঋণেরসুদের হার হচ্ছে ২৩-৩০ শতাংশ – আর কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে মাসিক ভিত্তিতে। উন্নত বিশ্বের কোন দেশে এতো উচ্চ সুদের হার আর মসিক ভিত্তিতে কিস্তি পরিশোধের নিয়ম নেই। আবার উন্নত বিশ্বে আমাদের দেশের মতো ক্ষুদ্র ঋণের গ্রাহক ও নেই – সেখানে নিম্ন আয়ের লোকজন এবং সকল ইমিগ্রান্ট বেকার ভাতা কিংবা অন্য কোন সরকারী সহায়তার আওতায় আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে। বাংলাদেশে বেকার এবং ক্ষুদ্র ঋণের গ্রাহকদের খোঁজ খবর নেবার কেউ নেই- ছোট বড়ো সকল এনজিও তাঁদেরকে সেধে সেধে ঋণ দিয়ে কিস্তি পরিশোধের ফাঁদে ফেলে নিষ্ঠুর/ নির্দয়ভাবে তাঁদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। আর অমানবিক মানষিক নির্যাতন সইতে না পেরে অনেক পরিবার তাঁদের সন্তানদের হত্যা করে নিজেরা আত্বহত্যা করছে।
মেয়াদী আমানত কিংবা সঞ্চয়পত্রে সুদের হার ৯-১১%। ক্ষুদ্র ঋণের সুদের হার কমবেশী শতকরা ৩০ ভাগ। এরূপ লাভজনক ব্যবসা খুব কমই আছে। আবার রয়েছে আয়কর অব্যাহতির সুবিধা। একটা বড় এনজিও-কে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ১৯৯৯ সালে আয়কর অব্যাহতির সুবিধা প্রদান করে যা আজো অব্যাহত আছে বলে জানা যায়।
ক্ষুদ্র ঋণের এরূপ উচ্চতর সুদের হার হালাল নাকি হারাম। কোরআনে এবিষয়ে সর্বমোট ৯টি আয়াত রয়েছে। সবগুলো আয়াতকে একত্রে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে এরূপ উচ্চতর সুদের হার অবশ্যই হারাম। কোরআনের দুটো আয়াত এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে-
ক) যদি খাতক অভাবী হয়, তবে স্বচ্ছল না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে ছাড় দাও। আর যদি ঋণ মাফ করে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরো কল্যাণের, যদি তোমরা তা জানতে (আয়াত ২৮০, সূরা বাকারা)- এই বিধান এনজিও-গুলোর ক্ষেত্রে শতভাগ অকার্যকর।
খ) “ হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না ( আয়াত ১৩০, সূরা আলে ইমরান)। এনজিও-গুলোর সুদের হার (২৩-৩০%) চক্রবৃদ্ধি হারের চাইতে অনেক বেশী।
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা কাউকে সুদখোর বলে তিরস্কার করতেন কিন্তু সুদের লাঘাম টেনে ধরার জন্য কোন ব্যবস্থা তিনি গ্রহণ করেননি।
বিশ্বব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত Atlas of Sustainable Development Goals 2023 তে উল্লেখ করা হয়েছে- সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা হচ্ছে ১৭ কোটি। তন্মধ্যে ১২ কোটি ১০ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যসন্মত খাবার খেতে পারে না। স্বাস্থ্যসন্মত খাবার কেনার সামর্থ্য তাদের নেই (সুত্র- জাতীয় দৈনিক-০৭ জুলাই , ২০২৩)। আমি যদি ধরে নিই ১২ কোটি ১০ লাখ নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে অন্ততঃপক্ষে ৫০% অর্থাৎ ৬ কোটি ৫ লাখ মানুষ হচ্ছে ক্ষুদ্র ঋণের গ্রাহক- তাহলে এটাতো একটা বিশাল সংখ্যা।
এনজিও গুলো যে কোন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের ৬০-৭০% প্রফিট করতে চায় বলে আমার মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতায় আমার নিকট প্রতীয়মান হয়েছে। ক্ষুদ্র ঋণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প উভয় ক্ষেত্রেই এনজিও গুলো BUMPER PROFIT করে চলেছে।
MICRO CREDIT REGULATORY AUTHORITY- এই কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ক্ষুদ্র ঋণের সুদের হার এবং আদায় কার্যক্রমকে RATIONALIZE তথা যৌক্তিক করার লক্ষ্যে। কিন্তু জন্ম-লগ্ন থেকে আজ অবধি উক্ত কর্তৃপক্ষ সুদের হার নিয়ন্ত্রণে কিংবা আদায় কার্যক্রমকে যৌক্তিক করার লক্ষ্যে দৃশ্যমান কোন রূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি। এনজিও গুলোর লেজুড় ভিত্তিক এরূপ অকর্মণ্য প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয়ে টিকিয়ে রাখার যৌক্তিক কোন কারণ নেই।
বৃহৎ ব্যবসায়ীরা সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় কিভাবে রাষ্ট্রকে ঠকিয়ে নিজেদের বিশাল অর্থ ভান্ডার গড়ে তুলছে তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিম্নরূপঃ-
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে বছরে ১ লাখ ২৫ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা কর ছাড় দেয়া হয়। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ৬৮ শতাংশ বা ৮৫ হাজার ৩১৫ কোটি টাকার কর্পোরেট কর ছাড় দেয়া হয় । বাকি প্রায় ৪০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যক্তি পর্যায়ের করদাতাদের। হিসেবটি করা হয়েছে ২০২০-২১ অর্থ বছরের আয়কর ধরে। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের পরামর্শে এই প্রতিবেদন তৈরী করা হয়েছে।
“ ১৫ বছরে ব্যাংক থেকে ৯২ হাজার কোটি টাকা লুটপাট” – জাতীয় দৈনিক -২৪ ডিসেম্বর , ২০২৩।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে ২০০৮ থেকে ২০২৩-এই ১৫ বছরে দেশের ব্যাংক খাত থেকে ছোট বড় ২৪টি অনিয়মের মাধ্যমে ৯২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে।
খেলাপি ঋণ – ২০০৮ সালে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা। সেটি এখন বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা হয়েছে।প্রতি বছর গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি ডলারপাচার হচ্ছে।
অথচ সংবিধানের ১৯(১) অণুচ্ছেদে বলা আছে – সকল নাগরিকের জন্যে সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন। রাষ্ট্র সংবিধানের এই বিধানকে লংঘন করে বৃহৎ ব্যবসায়ীদেরকে উক্ত রূপ সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রকে এই পথ থেকে সরে আসার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সংবিধান লংঘন করে কোন ব্যক্তি/গোষ্ঠী/ বৃহৎ ব্যবসায়ী/ বৃহৎ এনজিও- কে বিশেষ সুবিধা দেয়ার জন্যে কিন্তু রাষ্ট্রের জন্ম হয়নি।
বাণিজ্যিক ঋণের সুদের হার ১৫% হলে ক্ষুদ্র ঋণের সুদের হার ২৩-৩০% হবে কেন? সরকারী কর্মকর্তারা বিনা সুদে গাড়ী এবং স্বল্প সুদে এপার্ট্মেন্ট কেনার জন্য ঋণ পেলে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতারা কেন সর্বোচ্চ সুদের হারে ঋণ নেবে? এতে তো সংবিধানের ১৯(১) এর বিধান লংঘিত হচ্ছে।
আমার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ৭১% নিম্ন আয়ের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করে সেটাকে তাঁদের রাজনৈতিক কর্মসূচীতে অন্তর্ভুক্ত করার কোন কর্মসূচী কোন রাজনৈতিক দলেরই নেই – জনগণের মাথাপিছু আয়কে ২ হাজার ৫ শত ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার কিংবা ২০ হাজার ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রাও কোন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচীতে নেই। বর্তমান সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকূফের যুগান্তকারী কর্মসূচী গ্রহণ করেছেন। কিন্তু ক্ষুদ্র ঋণ মওকূফের কোন কর্মসুচী সরকারের নেই। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকূফ করা হলে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রাহকদের ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষুদ্র ঋণ মওকূফ করা অত্যাবশ্যক।
ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি পরিশোধের অমানবিক নির্যাতন সইতে না পেরে এক একটা নিরীহ নিঃস্ব পরিবারের বাবা-মা নিজের ছেলে মেয়েকে হত্যা করে নিজেরা আত্ব হত্যা করছে – এ ব্যাপারে কাউকে কোন উচ্চ বাচ্য করতে কিংবা সহমর্মিতা/ সমবেদনা জানাতে দেখিনি- কি নীষ্ঠুর আমাদের সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। অথচ কেউ কেউ আবার গর্ব করে বলে থাকেন ক্ষুদ্র ঋণের গ্রাহকরা পালিয়ে যায় না- তাঁরা পালিয়ে যাবে কোথায়? – পালিয়ে যাবার পথ কি তাঁদের আছে?- তাঁদের সন্মুখে একটা পথই খোলা আছে – সেটি হচ্ছে স্বপরিবারে আত্বহনন।
ইউরোপ-আমেরিকা-অষ্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর সকল সভ্য-উন্নত দেশে যাদের TAXABLE INCOME আছে তাঁদেরকে ট্যাক্স পরিশোধ করতে হচ্ছে- যাদের বেঁচে থাকার সংস্থান নেই তাঁদেরকে বেঁচে থাকার মতো মাসিক ভাতা দেয়া হচ্ছে- নিম্ন এবং মাঝারী আয়ের লোকদেরকে স্বল্প সুদে ঋণ দেবার ব্যবস্থা আছে- ছাত্রেরা স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারে-ছাত্র জীবন শেষ করে চাকুরী করে তাঁরা সে ঋণ পরিশোধ করে থাকে। আর আমাদের দেশে আমরা কি করছি সেটা তলিয়ে দেখা অত্যাবশ্যক। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি কি করছে?BIDS-CPD সহ গবেষণা প্রতিষ্ঠান গুলো কি করছে?সুজন কি করছে? রাজনৈতিক দলগুলো কি করছে? এ সব বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর ফুরসৎ তাঁদের কারো নেই। আমাদের জাতীয় চরিত্র হচ্ছে আমরা কেউ নিজের স্বার্থ ছাড়া অন্যের স্বার্থ নিয়ে ভাবতে পারি না- রাষ্ট্রের স্বার্থ নিয়ে ভাবার লোকের ভীষণ অভাব।
উপর্যুক্ত অবস্থার প্রেক্ষাপটে সরকারের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কর্তৃক ক্ষুদ্র ঋণের সুদের হার ৫% নির্ধারণ করে দিয়ে ত্রৈমাসিক/ষান্মাসিক কিস্তিতে উহা আদায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেতে পারে। সরকারী উদ্যোগে এরূপ ঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্যে এক লক্ষ কোটি টাকার সরকারী মূলধন দিয়ে সম্পূর্ণ সরকারী মালিকানায় দেশে একটা ক্ষুদ্র ঋণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে প্রত্যেক উপজেলা সদরে উহার শাখা কার্যক্রম চালু করা যেতে পারে। প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ছোট পরিসরে উহার শাখা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। MICRO CREDIT REGULATORY AUTHORITY-কে অবিলম্বে বিলুপ্ত করে উহার কার্যালয়কে ক্ষুদ্র ঋণ ব্যাংকের সদর দপ্তরে রূপান্তর করা যেতে পারে।
রাষ্ট্র যেহেতু, রাষ্ট্রীয় তহবিল- বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরি- ব্যাংকে রক্ষিত পাবলিকের আমানতের অর্থ লোপাট- বিদেশে পাচার ঠেকাতে পারছে না-বৃহৎ এনজিও/ বৃহৎ ব্যবসায়ীদের আয়কর অব্যাহতির মাধ্যমে রাষ্ট্র প্রায় ১ লক্ষ ৫০হাজার কোটি টাকা থেকে ২ লক্ষ কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে- এনজিও গুলোর সর্বোচ্চ সুদের কিস্তি পরিশোধের নির্যাতন থেকে নিরীহ গ্রাহকদেরকে নিষ্কৃতি দিতে পারেনি- হারাম অর্জন থেকে এনজিও গুলোকে বিরত রাখতে পারেনি; সেহেতু, রাষ্ট্রের জন্য ফরজ হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রীয় তহবিল দিয়ে ক্ষুদ্র ঋণ ব্যাংক স্থাপন করে নামমাত্র সুদে হতদরিদ্র নাগরিকদের কোন রূপ জামানত ছাড়া ঋণ প্রদান কার্যক্রমের প্রবর্তন করা।
আমার জানামতে বাংলাদেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ঘোষণা করার পূর্ব পর্যন্ত বিশ্ব ব্যাংকের সুদের হার ছিল ১% – এশিয়ান ডেভেলাপমেন্ট ব্যাংকের সুদের হার ও প্রায় একই রকম আর ইসলামিক ডেভেলাপমেন্ট ব্যাংকের ইস্তিসনার/ সার্ভিস চার্জের হার ছিল ২.৫%। এই প্রতিষ্ঠান গুলো যদি নামমাত্র সুদে তাঁদের প্রতিষ্ঠান চালাতে পারে তাহলে প্রস্তাবিত ক্ষুদ্র ঋণ ব্যাংক ও ৫% সুদে তাঁর ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাতে সক্ষমতার পরিচয় দেবে।
জননেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর সরকার এরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সেটা বাংলাদেশের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।
লেখক- অর্থনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব।
