আমার কাগজ ডেস্ক
আর কদিন পরেই শুরু হতে যাচ্ছে মহান সিয়াম সাধনার মাস। এই মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। এমনকি নফল ইবাদতও ফরজের সমান মর্যাদা লাভ করে। অনেকেই ভাবেন এই মাসে ওমরাহ করা আর পুরো বছরের ওমরাহ করার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। আসলে কিন্তু তা নয়, বরং রমজানে ওমরাহর বিশেষ মর্যাদা সম্পর্কে একটি হৃদয়গ্রাহী হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا رَجَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ حَجَّتِهِ قَالَ لأُمِّ سِنَانٍ الأَنْصَارِيَّةِ مَا مَنَعَكِ مِنْ الْحَجِّ قَالَتْ أَبُو فُلاَنٍ تَعْنِي زَوْجَهَا كَانَ لَهُ نَاضِحَانِ حَجَّ عَلَى أَحَدِهِمَا وَالآخَرُ يَسْقِي أَرْضًا لَنَا قَالَ فَإِنَّ عُمْرَةً فِي رَمَضَانَ تَقْضِي حَجَّةً أَوْ حَجَّةً مَعِي
ইবনে ‘আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ হতে ফিরে এসে উম্মে সিনান (রা.) নাম্নী এক আনসারী মহিলাকে বললেন, হজ আদায় করাতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তিনি বললেন, অমুকের আববা অর্থাৎ তার স্বামী, কারণ পানি টানার জন্য আমাদের মাত্র দু’টি উট আছে। একটিতে সাওয়ার হয়ে তিনি হজ আদায় করতে গিয়েছেন।
আর অন্যটি আমাদের জমিতে পানি সিঞ্চনের কাজ করছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রমজান মাসে একটি ওমরাহ আদায় করা একটি ফরজ হজ আদায় করার সমান অথবা আমার সঙ্গে একটি হজ আদায় করার সমান। (বুখারি, হাদিস : ১৮৬৩)
এই হাদিসে রমজান মাসে ওমরাহ আদায়ের অসাধারণ মর্যাদা তুলে ধরা হয়েছে। আলেমগণ ব্যাখ্যা করেছেন, এখানে সওয়াবের দিক থেকে সমতার কথা বলা হয়েছে, ফরজ হওয়ার দিক থেকে নয়।
অর্থাৎ রমজানের ওমরাহ ফরজ হজের দায়িত্ব আদায় করে দেয় না; তবে সওয়াবের দিক থেকে এর মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ।
রমজানে ওমরাহর ফজিলতের একটি কারণ হলো, এ মাস নিজেই বরকতপূর্ণ সময়। সময়ের মর্যাদা যখন বেশি হয়, তখন সেই সময়ে সম্পাদিত ইবাদতের মূল্যও বেড়ে যায়। যেমন কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম, তেমনি রমজানে করা ইবাদতও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। আর ওমরাহ যেহেতু নিজেই একটি বড় ইবাদত, তাই তা রমজানে আদায় করলে তার সওয়াব বিশেষভাবে বৃদ্ধি পায়।
