আমার কাগজ প্রতিবেদক
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর দুঃস্থদের মধ্যে বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণের কর্মসূচি শুরু করেছেন দলের চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৩০ মে) বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ১১টা ২৫ মিনিটে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর টিঅ্যান্ডটি কলেজ মাঠে দুঃস্থদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণের কর্মসূচি শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল আলম মিল্টনসহ দলের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী সেখানে তিনি কিছু সামগ্রী নিজ হাতে বিতরণ করে শ্যমলী স্কয়ারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানেও তিনি দুঃস্থদের মধ্যে বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, এদিন ঢাকার ১৭টি স্পটে বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
ঢাকা মহানগর উত্তরে টিঅ্যান্ডটি কলেজ মাঠ এবং শ্যমলী স্কয়ার এর পাশাপাশি সরকারি বাংলা কলেজ, আয়ুর্বেদী কলেজের উল্টো পাশে, পল্লবী মেট্রো স্টেশনের কাছে, ইসিবি চত্বর, কুডিল বিশ্ব রোড বাস স্ট্যান্ড, ফুজি ট্রেড সেন্টারে এ কর্মসূচি হবে।
আর ঢাকা মহানগর দক্ষিণে বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণ হবে মালিবাগের তালতলার জোড় পুকুর খেলার মাঠ, শাহজাহানপুরে মির্জা আব্বাসের বাসভবনের সামনে, নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে, বাংলাবাজারে যুব দল কার্যালয়ের সামনে, ধোলাইখাল লিংক রোড, শহীদ ফারুক সড়কে যাত্রাবাড়ি চৌরাস্তা,জুরাইন রেলগেইট এবং সাত মসজিদ রোডের বাস স্ট্যান্ডের সামনে।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একদল সেনা সদস্য। এরপর সেনাপ্রধান হন জিয়াউর রহমান।
ওই বছরের ৭ নভেম্বর ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লবের’ পর রাষ্ট্রপতি বিচারপতি এএসএম সায়েমের নেতৃত্বে উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে জিয়া ক্ষমতা গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন ১৯৭৮ সালের ২১ এপ্রিল।
১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় চট্টগ্রামে এক দল সৈন্যের গুলিতে নিহত হন জিয়া। বিএনপি দিনটি তার ‘শাহাদত দিবস’ হিসেবে পালন করে।
দিবসটি উপলক্ষে শনিবার ভোরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে বিএনপির পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়; তোলা হয় জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা।
বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো দিনটি উপলক্ষে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনের উদ্যোগে জিয়ার জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা সভা, চিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী পালনে বিএনপির আট দিনের কর্মসূচি শুরু হয় গত ২৫ মে। এর অংশ হিসেবে রোববার বেলা আড়াটায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা হবে।
