কেরানীগঞ্জে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা
ঢাকার কেরানীগঞ্জে গৃহশিক্ষিকার বাসা থেকে মা ও মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৯টায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় শামিম মিয়ার মালিকানাধীন পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রোকেয়া রহমানের মরদেহ এবং বাথরুমের ছাদের ওপর থেকে তার মেয়ে ফাতেমা (১৪)-র মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা গৃহশিক্ষিকা নুসরাত মিম (২৪), তার স্বামী হুমায়ুন (৩০) এবং নুরজাহান (১৫) ও মাহি (১১) নামে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
ভবন মালিক শামিম মিয়া জানান, প্রায় আড়াই মাস আগে রঙমিস্ত্রি হুমায়ুন ও গৃহশিক্ষিকা নুসরাত মিম ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন ধরে মুক্তিরবাগ ডায়াবেটিস বাজার এলাকায় ওই বাসার আশপাশে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। প্রথমে সেটিকে ময়লার গন্ধ মনে করা হলেও বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে দুর্গন্ধ আরও বাড়ে। পরে এলাকাবাসী গন্ধের উৎস খুঁজে বের করেন এবং নিশ্চিত হন যে তা শামিম মিয়ার ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে আসছে।
ফ্ল্যাটের দরজা খুলতে বললে নুসরাত মিম জানায়, দরজা খোলা সম্ভব নয়। এতে সন্দেহ বাড়লে এলাকাবাসী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ফ্ল্যাটে ঢুকে মা ও মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের ধারণা, প্রায় ২২ দিন আগে তাদের হত্যা করে মরদেহ গোপন করা হয়েছিল।
নিহত রোকেয়ার স্বামী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর সহকারী শাহিন মিয়া জানান, তার মেয়ে ফাতেমা গত ২৫ ডিসেম্বর গৃহশিক্ষিকা নুসরাত মিমের বাসায় পড়তে আসে। ২৫ ডিসেম্বর থেকেই তার স্ত্রী ও মেয়ে নিখোঁজ ছিলেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে ২৬ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে তাদের সর্বশেষ অবস্থান মিমের বাসা হওয়ায় সন্দেহ বাড়ে এবং গত ৬ জানুয়ারি নুসরাত মিম ও তার স্বামী হুমায়ুনকে সন্দিহান করে একটি মামলা দায়ের করেন।
শাহিন মিয়া অভিযোগ করেন, আমি নিয়মিত থানায় যোগাযোগ করেছি। পুলিশ যদি শুরু থেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখত, তাহলে হয়তো আজ এমন পরিণতি হতো না। আমার স্ত্রী ও মেয়ের গলায় স্বর্ণের চেইন ছিল; আমার ধারণা, স্বর্ণালঙ্কারের লোভেই তাদের হত্যা করা হয়েছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম বলেন, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৃহশিক্ষিকা নুসরাত মিম ও তার স্বামীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। খুব শিগগিরই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে।
