আমার কাগজ প্রতিবেদক
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশগ্রহণে সকাল থেকেই রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে শোকার্ত মানুষের ঢল নেমেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের চোখে মুখে আপসহীন নেত্রীকে হারানোর বেদনা।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার পর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দেখা যায়, হাজার হাজার মানুষ অবস্থান করছেন। চারদিক থেকে দলে দলে মানুষ জানাজায় অংশগ্রহণে আসছেন।
খামারবাড়ি এলাকায় কথা হয় আতিকুর রহমান নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি বলেন, এই সময়ে বাড়িতে থাকা যায় না। এমন আপসহীন নেত্রী বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুব কমই এসেছে। শেষ বিদায়ে শরিক হতে না এলে নিজের কাছে অপরাধ মনে হতো।
ভোলার চরফ্যাশন থেকে আসা মো. সোলেমান জানান, শীতের কারণে লঞ্চে আসতে দেরি হয়েছে। শরীরও ভালো নেই। তবু এসেছেন। তার কথায়, ‘ম্যাডামের জন্য একটা আলাদা টান কাজ করেছে। চুপচাপ জানাজায় দাঁড়িয়ে দোয়া করব।
নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে আসা আবু বকর বলেন, তিনি কয়েকজন পরিচিতজনকে নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। তিনি বলেন, আমরা কোনো মিছিল বা স্লোগানের জন্য আসিনি। শুধু শেষবারের মতো সম্মান জানাতে চাই। জানাজায় দাঁড়াতে পারলে আমাদের আসা সার্থক হবে।
রাজশাহী থেকে আসা ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রবীণ কর্মী ইসমাইল হোসেন বলেন, ম্যাডামের মৃত্যুতে মনে হচ্ছে, আমাদের মাথার ওপর থেকে একটা ছায়া সরে গেছে। তিনি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। এই কাঁপানো শীতেও আমরা এসেছি কেবল তার জন্য দোয়া করতে।
সিলেট থেকে আসা মাঠপর্যায়ের কর্মী জামার উদ্দিন বলেন, আজ কোনো শোডাউনের দরকার নেই। নেত্রীকে শেষবারের মতো দেখা আর জানাজায় দাঁড়ানোই সবচেয়ে জরুরি। তার বিদায়ে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেটা আর পূরণ হওয়ার নয়।
এরআগে, মঙ্গলবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আজ (বুধবার) দুপুর ২টায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার আয়োজনে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন কার্যক্রম ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ইন্তেকাল করেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ৭৯ বছরের অর্জনপূর্ণ জীবনের অবসানে তাঁর জন্য শোকস্তব্ধ বাংলাদেশ। শুধু কর্মী-সমর্থক নন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী-প্রতিযোগী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।
