আমার কাগজ প্রতিবেদক
দেশে এখন জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের তোড়জোড় চলছে। গত ১১ ডিসেম্বর ঘোষণা হয়েছে নির্বাচনের তফসিল। অথচ দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো নাজুক। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুলিশ প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার (এসপি) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লটারির মাধ্যমে পদায়ন করেছে। এবার শীর্ষ পদে রদবদল করতে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতিহাসের সেরা নির্বাচন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। সে হিসেবে আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির অন্যতম শর্ত হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সাধন করা। পেশীশক্তি ও কালো টাকার আধিপত্য নির্মূল করা না হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। আর এ বিষয়টি নির্ভর করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর। এ কারণেই বিতর্ক এড়াতে মাঠ পর্যায়ে লটারির মাধ্যমে এসপি-ওসি পদায়ন করা হয়েছে। কিন্তু তাদের পরিচালনার দায়িত্ব যাদের ওপর সেখানে গলদ রয়েছে। বিশেষ করে শীর্ষ পদে নিযুক্ত কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা অনেকটা গৌন হয়ে পড়ে। কিন্তু নিয়মিত কর্মকর্তা থাকলে পেশার সুনাম রক্ষার স্বার্থেই দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা গুরুত্ব পায়। আর সে বিষয়টি উপলব্ধি করেই শীর্ষ পদে রদবদল করতে চায় সরকার।
এক্ষেত্রে বিদায় নিতে হতে পারে চুক্তিভিত্তিক নিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমকে। তার বিষয়ে এমনিতেই কোন কোন মহল থেকে আপত্তি জানানো হচ্ছে। আর নতুন আইজিপি হিসেবে দেখা যেতে পারে বিসিএস ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তাকে।
একই সঙ্গে বিদায়ের তালিকায় রয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. গোলাম রসুল এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজি এ কে এম শহিদুর রহমান।
শূন্য পদে পদায়নের বিষয়ে কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি মোসলেহউদ্দিন, রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি কাজী ফজলুল করিম এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. ছিবগাত উল্লাহ।
