
আমার কাগজ প্রতিনিধি
সারা দেশের মত শীতের তীব্রতা বাড়ছে শরীয়তপুরে। গত তিনদিন ধরে কুয়াশার সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় একদিকে যেমন বাড়ছে শীত, অন্যদিকে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ।
এতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
শুধু শরীয়তপুর সদর হাসপাতালেই প্রতিদিন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। শয্যার চাইতে বেশি ডায়রিয়ার রোগী থাকায় আক্রান্ত শিশুসহ ও তার স্বজনদের হাসপাতালের বারান্দার ফ্লোরে অবস্থান করতে হচ্ছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “১০০ শয্যার এ হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে মোট ১০টি শয্যা রয়েছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ৪০ জন। আর গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মোট রোগী ভর্তি হয়েছে ২৭৬ জন।”
হাসপাতাল ঘুরে বারান্দাসহ যত্রতত্র রোগী দেখা গেছে। নোংরা পরিবেশ ও সময় মতো ডাক্তার না আসায় শিশুরা চরমভাবে ভোগান্তিতে পড়েছেন। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে কেউ আক্রান্ত শিশুকে কোলে নিয়ে খাওয়াচ্ছেন, কেউ বা সান্ত্বনা দিচ্ছেন। অধিকাংশ শিশুই পাতলা পায়খানা, ঠান্ডা-কাশি ও বমি নিয়ে ভর্তি হয়েছে।
সেখানে কথা হয় শরীয়তপুর শহরের চর পালং উত্তর বাজারের ব্যবসায়ী মোতালেফ হোসেনের সঙ্গে। তিনি ছেলেকে চিকিৎসক দেখাতে এসেছিলেন।
হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এই হাসপাতালে রোগীর অনুপাতে শয্যা না থাকায় ও পরিবেশ নোংরা হওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা।”
চর পালং এলাকার আয়েশা বেগম নামে এক রোগীর স্বজন বলছিলেন, “হাসপাতালের চারপাশে নোংরা আর ময়লায় ভরা। টয়লেটগুলো ভীষণ অপরিষ্কার; ব্যবহার করা যায় না। আর টয়লেটের দুর্গন্ধে তো টেকাই দায়।”
সদরের আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের মনোহর এলাকার সালমা এসেছেন তার ডায়রিয়া আক্রান্ত সন্তানকে নিয়ে। তিনি হাসপাতালের পরিবেশের পাশাপাশি অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সালমা বলেন, “বেড না থাকায় ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। কিন্তু মেঝে নোংরা আর স্যাঁতস্যাঁতে; পরিষ্কার করে না। নার্সদের ডাকলেও ঠিকমত সাড়া দেয় না।”
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নবজাতক, শিশু ও কিশোর মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রাজেশ মজুমদার বলেন, “শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডায়রিয়াজনিত সমস্যা শিশুদের ক্ষেত্রে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গরমের তুলনায় শীতে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা চার গুণ বেশি।”
তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা ১০টি। ফলে দুর্ভোগ হচ্ছে রোগীদের। তারপরও রোগীর চিকিৎসায় সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।”
তবে শিশুদের পাতলা পায়খানা বা বমি হলেই আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন এই শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
শয্যা সংকুলান না হওয়ায় হাসপাতালের ফ্লোরে রোগী রাখার কথা স্বীকার করেছেন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান।
ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ায় এ সময় বাসি খাবার না খেতে এবং শিশুদের মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য পরামর্শ দিয়েছেন এ চিকিৎসক।