
আদালত প্রাঙ্গণে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খাইরুল ইসলাম
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে এক কারারক্ষীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খাইরুল ইসলাম (২৮) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বাইচাইল এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি কিশোরগঞ্জ কারাগারের কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি এমএ আফজল।
নিহত রুমা আক্তার কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার মানিকখালী গ্রামের দুবাই প্রবাসী আবদুল মান্নানের মেয়ে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, কারারক্ষী খাইরুলের সঙ্গে ২০১৮ সালে রোমা আক্তারের (২২) বিয়ে হয়। তারা কারাগারের কোয়ার্টারে থাকতেন। বিয়ের পর থেকেই রোমাকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করা হতো। পরে বাধ্য হয়ে বিয়ের ৬ মাস পর খাইরুলকে ৩ লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হয়।
এরপর মোটরসাইকেল কেনার জন্য আরও দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা দাবি করেন খাইরুল। এতে রোমা রাজি না হওয়ায় ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর মধ্যরাতে রোমাকে মারধর করে বিষ খাইয়ে দেওয়া হয়।
রোমা অসুস্থ হয়ে পড়লে খাইরুল তার শাশুড়ি ছিনু বেগমকে ফোনে বিষয়টি জানান। পরে মা ছিনু বেগম সকালে এসে রোমাকে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু খাইরুলের বাধার মুখে এখান থেকে রোমাকে নিয়ে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিছুটা সুস্থ হলে ২৬ ডিসেম্বর মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যান তিনি। কিন্তু ২৯ ডিসেম্বর আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে রোমাকে নিয়ে তার মা দুপুরে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথেই বিকাল সাড়ে ৪টায় রোমা মারা যান।
এরপর মরদেহ নিয়ে তিনি কিশোরগঞ্জ সদর থানায় গেলে ময়নাতদন্ত করানো হয়। পরে ৩০ ডিসেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে খাইরুলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন ২০২১ সালের ৩১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেন। বৃহস্পতিবার মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।