মো: জুহায়ের আখতার সম্প্রীতি, বুটেক্স প্রতিনিধি
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) ক্যাম্পাসে জুলাই কালচারাল সেন্টার, বুটেক্স এর উদ্যোগে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) একটি প্রতীকী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই প্রতীকী গণভোটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘গণভোট ২০২৬’ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বুটেক্সের একাডেমিক ভবনে সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলা এই ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। এতে বুটেক্সের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যায়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণভোট বা জনমত জরিপ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণ সরাসরি কোনো প্রস্তাব, আইন বা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়ে নিজের মতামত ভোটের মাধ্যমে প্রকাশ করে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে যে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিল, তার মূল চেতনা ছিল একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা। সেই চেতনাকে সামনে রেখে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেন জনগণ সঠিক প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে এবং দেশে পুনরায় কোনো ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠিত না হয়—সে লক্ষ্যে গণভোট সম্পর্কে সার্বিক সচেতনতা তৈরির জন্যই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
গণভোট প্রসঙ্গে জুলাই কালচারাল সেন্টার, বুটেক্স এর সদস্য এবং এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কাজী মুহাম্মদ ওসমান মাহদী বলেন, বিগত সময়ে গণতান্ত্রিক ভোটব্যবস্থা নিয়ে সমাজে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত নয়।
তার মতে, ফ্যাসিবাদ দূর করা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোট ২০২৬ সফল করতে জনসচেতনতা গড়ে তুলতেই এই প্রতীকী গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।
জুলাই কালচারাল সেন্টার, বুটেক্স এর আরেক সদস্য, একই বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল লাবিব জানান, জুলাই আন্দোলনের পর একটি নতুন বাংলাদেশ—‘বাংলাদেশ ২.০’-এর যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের জন্য সঠিকভাবে ভোট প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণভোট ২০২৬ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা ও সচেতনতা তৈরিই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য, বলেন তিনি।
গণভোটে অংশগ্রহণকারী সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।
তারা জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোট পদ্ধতি থাকায় সেটি বোঝার পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রস্তাবিত গণভোট ২০২৬ সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার লক্ষ্যে বুটেক্সে এই প্রতীকী ভোটকে একটি মক টেস্ট হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে। প্রতীকী ভোটের আগে গণভোট কী, এর সুবিধা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রচারণা চালানো হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তি দূর হয়েছে এবং মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়েছে।
বুটেক্সের ৫১তম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী বলেন, এটি প্রতীকী ভোট হলেও এর মাধ্যমে গণভোট সম্পর্কে একটি বাস্তব ধারণা পাওয়া গেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এ ধরনের আয়োজন হলে গণভোট ২০২৬ নিয়ে সার্বিক জনসচেতনতা আরও বিস্তৃত হবে।
প্রতীকী ভোটে অংশগ্রহণকারী বুটেক্সের হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক ইহসান ইলাহি সাবিক বলেন, বুটেক্সের শিক্ষার্থীদের এই আয়োজন প্রশংসার যোগ্য। সাধারণত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার প্রবণতা দেখা যায়; তবে এই উদ্যোগ দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মত প্রকাশের সুযোগ তৈরি করেছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মতো ইস্যুতে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক, বলেন তিনি।
ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. এ টি এম ফয়েজ আহমেদ ভোট প্রদান শেষে জানান, আয়োজনটি তার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা ও অংশগ্রহণের আগ্রহ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। এ কারণেই তিনি নিজেও প্রতীকী ভোটে অংশ নিয়েছেন।
গণভোট আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ মোট ৩৫০ জনের বেশি ভোটার এই গণভোটে অংশ নেন। এতে গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দেন ৩১৭ জন, যা মোট ভোটারের প্রায় ৯০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ‘না’-তে ভোট দেন ১৭ জন এবং বাকি ভোট বাতিল হয়।
দেশে প্রথমবার ক্যাম্পাসভিত্তিক এই প্রতীকী গণভোট জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট ২০২৬ নিয়ে জনমত গঠন ও গণতান্ত্রিক সচেতনতা তৈরিতে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
