বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর ইউনিয়নে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ডিলারের গোডাউন থেকে নিম্নমানের ও খাবারের অনুপযোগী ১২০ বস্তা চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ডিলার আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে বাজিতপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
জানা যায়, সরারচর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ১,৬০০ পরিবারের মাঝে টিসিবির আওতায় ৫ কেজি করে চাল বিতরণের বরাদ্দ ছিল। তবে চালের মান খারাপ হওয়ায় ভোক্তারা তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।
অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে চাল না নিয়েই বাড়ি ফিরে যান। গতকাল বুধবার (৪ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে সরারচর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নিচতলায় অবস্থিত ডিলারের গোডাউনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় সেখানে মজুদ থাকা ১২০ বস্তা নিম্নমানের চাল জব্দ করা হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বাজিতপুর থানার এসআই আব্দুল কাদির এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হাদিকুল ইসলাম।
ভোক্তা সকিনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, “এই চাল মুরগিও খাবে না, মানুষ কীভাবে খাবে? রোজা-রমজানের দিনে আমাদের এমন নিম্নমানের চাল দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাল না নিয়েই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।”
ইউনিয়ন ট্যাগ অফিসার মোঃ হাদিকুল ইসলাম বলেন, “উদ্বোধনের সময় চালের বস্তাগুলো মানসম্মত ছিল। পরবর্তীতে কারসাজির মাধ্যমে নিম্নমানের চাল সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সরারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান স্বপন বলেন, “আমি একটি মন্ত্রণালয়ের সভায় থাকায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে পারিনি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডিলারের প্রতিনিধির বক্তব্য—“জনগণ যদি এই চাল না নেয়, তাহলে আমরা কী করব?”—এমন মন্তব্যে স্থানীয়দের মাঝে আরও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল সরারচর ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হন। অভিযুক্ত ডিলারকে উপজেলা পরিষদ থেকে ফোন করা হলে তিনি ঘটনাস্থলে আসার কথা বললেও পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি উপস্থিত হননি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পুলিশ ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে পরিষদের একটি কক্ষে মজুদ রাখা অবশিষ্ট চাল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
