আমার কাগজ ডেস্ক
বাংলাদেশের হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে শুক্রবারও বিক্ষোভ হয়েছে। মূলত কলকাতায় কেন্দ্রীভূত এই বিক্ষোভগুলো দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে শুরু হলেও গত কয়েকদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানীতেই তীব্র রূপ নেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি নির্বাচনী ফায়দা তোলার কৌশল হিসেবে এ ইস্যুকে ব্যবহার করছে।
বিবিসি বাংলা জানায়, শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাসের সামনে কয়েকশ হিন্দু সাধু-সন্ন্যাসীর একটি বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন বিজেপি নেতা ও পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা একশ কোটি হিন্দু, বাংলাদেশের দেড়-দুই কোটি হিন্দুর জন্য লড়ব।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে ‘হিন্দু সংহতি’ সংগঠনের সদস্যরা একই স্থানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। দিনভর উপদূতাবাস চত্বরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা যায়। প্রায় দুইশ মিটার দূরে পুলিশ দুর্ভেদ্য লোহার ব্যারিকেড তৈরি করে।
অন্যান্য রাজ্যে বিক্ষোভ
শুক্রবার সকালে আসামের গুয়াহাটিতে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনারের দফতরের সামনে একটি বাঙালি সংগঠনের সদস্যরা বিক্ষোভ করে স্লোগান দেন।
নির্বাচনী কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র চার-পাঁচ মাস আগে বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে বিজেপি নির্বাচনী ফায়দা তোলার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
সাধু-সন্ন্যাসীদের অংশগ্রহণ
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী সপ্তাহের শুরুতে ঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার কয়েকশ সাধু-সন্ন্যাসী নিয়ে উপদূতাবাসের সামনে হাজির হন। তাদের মধ্যে আসামের কামাখ্যা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার নাগা সন্ন্যাসীও ছিলেন। তাদের গলায় ঝোলানো ছিল দীপু চন্দ্র দাস হত্যার প্রতিবাদী পোস্টার।
শুভেন্দুর বক্তব্য
উপদূতাবাসের সঙ্গে বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের কক্সবাজারে রেখেছেন। গাজার ইহুদীদের জন্য ইসরায়েল লড়েছে। আমরাও একশ কোটি হিন্দু বাংলাদেশের দেড়-দুই কোটি হিন্দুর জন্য লড়ব। দশজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বিচার হবে, জামিন হবে না বলে তারা জানিয়েছে।
যোগী প্রতীকানন্দের ভাষ্য
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া যোগী প্রতীকানন্দ বলেন, বাংলাদেশে প্রতিদিন সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর অত্যাচার চলছে। দীপু দাসকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার আমরা ধিক্কার জানাই। ভারত সরকার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করুক।
কড়া নিরাপত্তা
কলকাতা পুলিশ নয় ফুট উঁচু দুই স্তরের লোহার জালের ব্যারিকেড তৈরি করে, যা মাটিতে গেঁথে ঝালাই করা হয়। পার্শ্ববর্তী রাস্তা ও ফুটপাথেও ছোট ব্যারিকেড ও পুলিশ প্রহরা রাখা হয়। সাধু-সন্ন্যাসীরা শান্তিপূর্ণভাবে বাজনা বাজিয়ে ব্যারিকেডের সামনে অবস্থান নেন।
জনমত ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে চাইছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশ প্রসঙ্গ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী প্রচার অসম্পূর্ণ। দীপু চন্দ্র দাসের ঘটনা থেকে তারা নির্বাচনী লাভের চেষ্টা করবে।
সম্পূরক ঘটনা
ইতিমধ্যে কেরালা ও ওড়িশায় একজন হিন্দু ও একজন মুসলমানের গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে, যাদের বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল। সামাজিক মাধ্যমে কিছু ব্যবহারকারী এই ঘটনাগুলো নিয়েও বিক্ষোভের দাবি জানান।
