আমার কাগজ প্রতিনিধি
সুন্দরবনে ফাঁদে আটকে পড়া একটি বাঘিনীকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বন বিভাগ জানিয়েছে, বাঘিনীটি এখনো পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত নয়।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বাঘিনীটিকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার পায়ে গুরুতর ক্ষত রয়েছে এবং শারীরিকভাবে সে বেশ দুর্বল অবস্থায় আছে।
রোববার দুপুরে বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তায় ট্রানকুইলাইজার গান ব্যবহার করে বাঘিনীটিকে অচেতন করা হয়। পরে ফাঁদ কেটে উদ্ধার করে লোহার খাঁচায় করে খুলনায় আনা হয়।
ইমরান আহমেদ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে শুক্রবার রাত অথবা শনিবার সকালে হরিণ শিকারের জন্য পাতা ছিটকা ফাঁদে বাঘিনীটি আটকা পড়ে। ফাঁদে বেশি নড়াচড়া করায় সেটি আরও কষে যায় এবং মুক্ত হওয়ার চেষ্টায় বাঘিনিটির পায়ে মারাত্মক আঘাত লাগে।
শনিবার দুপুরের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে বন বিভাগ জানতে পারে, বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বৈদ্যমারী ও জয়মনি বাজারের মধ্যবর্তী সুন্দরবনের পূর্ব অংশে চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির আওতাধীন শরকির খাল পাড়ের বনে একটি বাঘিনী ফাঁদে আটকা পড়েছে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনার বিভাগীয় বনকর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল জানান, বাঘিনিটির চিকিৎসার জন্য গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি অফিসার জুলকার নাইম খুলনায় এসেছেন। বাঘিনিটির শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রয়োজনে বাঘিনীটিকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হতে পারে। তবে সুস্থ হয়ে উঠলে যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানেই তাকে অবমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভেটেরিনারি অফিসার জুলকার নাইম জানান, ফাঁদে আটকে বাঘিনিটির পায়ের টিস্যু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে সংক্রমণ ও গ্যাংগ্রিনের ঝুঁকি রয়েছে। ফাঁদ থেকে মুক্ত হতে গিয়ে বারবার চেষ্টা করায় ক্ষত আরও বেড়েছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকালে বাঘিনীটিকে তিনবার ট্রানকুইলাইজার ইনজেকশন দেওয়া হয়। প্রথম দুইবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও তৃতীয়বার সফল হয়। বাঘিনীটি দুর্বল থাকায় কম মাত্রার ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে। খুলনায় এনে খাঁচামুক্ত করার পর বাঘিনীটি খাবার গ্রহণের চেষ্টা করেছে। তাকে স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধসহ খাবার দেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, চিকিৎসা শেষে বাঘিনীটি সুস্থ হলে সুন্দরবনেই ফিরিয়ে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
