ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীর পরশুরামে নোয়াপুর গ্রামে একটি বাড়িতে কেউ থাকেন না। কেউ না থাকলেও একটি পরিত্যক্ত টিনের ঝুপরি ঘরের মিটারে অক্টোবর মাসের বিদ্যুৎ বিল এসেছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৭ টাকা। ভুলবশত এমনটা হয়েছে বলে জানিয়েছে পরশুরাম পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম)।
সোমবার (১০ নভেম্বর) পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন বিলের কাগজ বাড়িতে পৌঁছে দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
অক্টোবর মাসের বিলের কপিতে দেখা গেছে, নোয়াপুর গ্রামের রেজু মিয়ার বিলের কপি প্রস্তুত করেন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বিল প্রস্তুতকারী মিতা দাস। তিনি গত ২৫ অক্টোবর এই বিল প্রস্তুত করেন। আগামী ১৩ নভেম্বর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের শেষ তারিখ উল্লেখ করা হয়। এতে এক মাসে বিদ্যুৎ বিল দেখানো হয়েছে এক লাখ পঁচিশ হাজার ৪০৮ টাকা। বাড়ির মালিক রেজুমিয়া পরিবার নিয়ে গত পাঁচ বছর ধরে ঢাকায় থাকেন। রেজু মিয়ার গ্রামের বাড়িতে পল্লী বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ এখনও সচল রয়েছে।
রেজু মিয়ার ভাতিজা স্থানীয় একটি নূরানী মাদরাসার শিক্ষক ইমাম হোসেন বলেন, মাঝে মাঝে সন্ধ্যা হলে একটি লাইট জ্বালানো হয়। এছাড়া ঘরের ভেতরে কোনো বৈদ্যুতিক কোন কিছুর সংযোগ নেই। তবুও এক মাসে বিল এসেছে এক লাখ পঁচিশ হাজার ৪০৭ টাকা। বিলের কপি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আমার জেঠা রেজু মিয়াকে জানালে তিনিও হতবাক হয়ে যান।
বিদ্যুৎ বিলের কপিতে দেখা যায় যে রেজু মিয়ার মিটারে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ৮ হাজার ৫ ইউনিট। বিল প্রস্তুতকারক মিতা দাস। এজিএম (অর্থ) ওই বিলে স্বাক্ষর করেছেন।
এরকম ভুতুড়ে বিলের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকাবাসী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন গ্রাহকরা।
এ বিষয়ে বিল প্রস্তুতকারী মিতা দাস বলেন,সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে এ সমস্যা হয়েছে, বিলের কপি নিয়ে আসলে পুনরায় ঠিক করে দেওয়া হবে। কাজ করতে গেলে একটু ভুল হতেই পারে।
পরশুরাম পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. সোহেল আকতার বলেন, বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা অসাবধানতাবশত হতে পারে। বিল প্রস্তুতকারীর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
