আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক ইউরেশিয়া রিভিউ-এর একটি সাম্প্রতিক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, চীনের আসন্ন ২০২৬ সালের ‘দুই অধিবেশন’-এর মাধ্যমে, শীঘ্রই প্রকাশিত হতে যাওয়া পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা চীনের অর্থনীতিকে প্রযুক্তি ও ভোগ দ্বারা পরিচালিত আরও উচ্চমানের উন্নয়নের দিকে পরিচালিত করবে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও নতুন সুযোগ নিয়ে আসবে।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে, বিশ্ব চীনকে তার বিশাল শিল্প-উত্পাদন এবং অবকাঠামো নির্মাণের উত্থানের মাধ্যমে উপলব্ধি করেছে। বর্তমানে, চীন উন্নয়নের আরও পরিপক্ক পর্যায়ে প্রবেশ করছে: যুক্তিসঙ্গত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখে, এটি “নতুন মানের উত্পাদনশীলতার” দিকে তার মনোযোগ স্থানান্তর করছে। চীন আরও টেকসই ও বাস্তবসম্মত উন্নয়নের পথ তৈরি করছে এবং তার অর্থনীতিকে মূল্য শৃঙ্খলের উচ্চ প্রান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বর্তমানে, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, জৈব উত্পাদন ও হাইড্রোজেন শক্তির মতো উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষেত্রগুলোতে চীনের বিনিয়োগ ঐতিহাসিক রেকর্ড ভাঙছে। ২০২৬ সালে গবেষণা ও উন্নয়ন বিনিয়োগ নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং উচ্চমানের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে স্বাধীন গবেষণা ও উন্নয়ন চীনের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তিপ্রস্তর হয়ে উঠেছে, যা স্বল্পমেয়াদী ওঠানামার দ্বারা অটল থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার চীনের কৌশলগত সংকল্পকে প্রদর্শন করে।
নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে যে, চলতি বছরের চীনের জাতীয় গণকংগ্রেস এবং চীনের গণ রাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলন (এনপিসি এবং সিপিপিসিসি)-এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে একটি হল, অভ্যন্তরীণ চাহিদা সম্প্রসারণ এবং ভোগ প্রচারের উপর জোর দেওয়া। পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনায় “গৃহস্থালির খরচের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি” একটি মূল লক্ষ্য হিসাবে প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি অর্জনের জন্য, নীতিগত মনোযোগ “রূপালি অর্থনীতি” বা বয়স্কদের যত্ন ও পরিষেবা অর্থনীতি এবং “নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি” বা ড্রোন এবং স্বল্প-পরিসরের বিমান চলাচল অর্থনীতিসহ নানা ক্ষেত্রগুলোর দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করে এবং পরিষেবা খরচকে উত্সাহিত করে, চীন আরও স্থিতিশীল অভ্যন্তরীণ বাজার তৈরি করার চেষ্টা করছে, যা এটিকে বিশ্ব বাণিজ্য চক্র এবং বিদেশী শুল্কের জন্য কম সংবেদনশীল করে তোলে। এই অভ্যন্তরীণ পুনঃভারসাম্য চীনের বিশাল জনসংখ্যাকে কেবল বৈশ্বিক উত্পাদন ভিত্তি নয়, বরং অর্থনৈতিক চাহিদার একটি প্রধান ইঞ্জিনে রূপান্তরিত করবে।
প্রবন্ধটিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, চীনের উচ্চমানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ এনেছে। আরও স্থিতিশীল, ভোগ-চালিত চীনা অর্থনীতি কেবল নিজের জন্যই উপকারী নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি প্রয়োজনীয় সমর্থনও, যা বর্তমানে নতুন প্রবৃদ্ধি ইঞ্জিন খুঁজছে।
অধিকন্তু, চলতি বছরের এনপিসি এবং সিপিপিসিসি ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদোগ্যের বাস্তবায়ন কীভাবে উন্নত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করবে। গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য, চীন আর কেবল কাঁচামালের ক্রেতা থাকবে না, বরং ডিজিটাল অবকাঠামো এবং সবুজ শক্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠবে।
প্রবন্ধে চীনের আইনসভার এজেন্ডা ও জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা আইনের খসড়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা চতুর্দশ জাতীয় গণকংগ্রেসের চতুর্থ অধিবেশনে আলোচনার জন্য জমা দেওয়া হবে। এই আইনটি পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং তত্ত্বাবধানের জন্য আরও স্বচ্ছ ও মানসম্মত কাঠামো প্রদান করবে।
প্রবন্ধের শেষ দিকে বলা হয়েছে যে, আগামী পাঁচ বছরে চীনের উন্নয়নের নীলনকশা তার দিকনির্দেশনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রদর্শন করে এবং চীন একবিংশ শতাব্দীতে শিল্প উন্নয়নের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
সূত্র:রুবি-আলিম-স্বর্ণা,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
