আমার কাগজ ডেস্ক
দাসত্ব ও সব ধরনের নিপীড়ন নির্মূলের জন্য শক্তিশালী বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (২৫ মার্চ) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘আন্তর্জাতিক দাসত্ব ও ট্রান্স-আটলান্টিক দাসবাণিজ্যের শিকারদের স্মরণে’ আয়োজিত এক সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এ আহ্বান জানান।
সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রান্স-আটলান্টিক দাসবাণিজ্যের শিকার লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং স্বাধীনতা ও ন্যায়ের জন্য লড়াই করা মানুষের অদম্য মানসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ট্রান্স-আটলান্টিক দাসবাণিজ্য মানবজাতির ওপর এক স্থায়ী কলঙ্ক রেখে গেছে।
ড. খলিলুর রহমান দাসত্ব, বর্ণবাদ, গণহত্যা ও সকল প্রকার নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অটল অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, বর্ণবাদ ও বৈষম্যকে প্রত্যাখ্যান করে এবং শোষিত জনগণের প্রতি দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করে।
বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯২৬ সালের দাসত্ব সংক্রান্ত কনভেনশন এবং প্রায় ৮০ বছর আগে গৃহীত মানবাধিকার সনদ দাসত্বকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যদিও দাসত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হয়েছে, তবে এর প্রভাব আজও সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক কাঠামোয় বিদ্যমান রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানব পাচার প্রতিরোধ, ডিজিটাল ফরেনসিক সমন্বয় এবং দাসত্ব ও দাস বাণিজ্যের ক্ষতি সম্পর্কে শিক্ষাব্যবস্থা ও সংলাপে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমন একটি বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানান তিনি, যেখানে দাসত্ব ও অন্যায়ের কোনো স্থান থাকবে না এবং মানব মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে।
