আমার কাগজ ডেস্ক
জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় চরম ভোগান্তি চলছে। জ্বালানি তেলের লাইনেই সব সময় চলে যাচ্ছে। কোথাও এক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন, কোথাও উত্তেজনা, কোথাও সংঘর্ষ– সব মিলিয়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে সাধারণ মানুষ। একই চিত্র দেখা গেছে রাজধানীতেও। ঢাকায় ছুটির দিনেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় কমছে না।
কিশোরগঞ্জ শহরতলিতে কিশোরগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়কের হিমু ফিলিং স্টেশনে দেখা গেল প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ মোটরসাইকেলের সারি। ভোর ৬টায় লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই দুপুর ১২টার আগে তেল পাননি। কেউ কেউ মোটরসাইকেল বাড়িতে রেখে শুধু ট্যাঙ্ক খুলে এনে তেল নিয়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাত্র ৫০০ টাকার তেল পেয়ে ফিরছেন চালকরা।
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় তীব্র রোদ উপেক্ষা করে শত শত মোটরসাইকেল চালক লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনেকে দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো তেল পাননি। কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পাম্প কর্তৃপক্ষ সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করায় সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
খুলনার ডুমুরিয়ায় তেল নেওয়ার সময় সিরিয়াল ভঙ্গ ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিএনপি ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরকে দোষারোপ করে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক হাজার ৬০০ লিটার ডিজেল জব্দ করেছেন। প্রশাসনের দাবি, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি ঠেকাতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে কিছু জেলায় ফুয়েল কার্ড চালু করেছে প্রশাসন। বৈধ কাগজপত্র থাকা মোটরসাইকেল মালিকদের কার্ড দিয়ে তেল সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকায়ও গতকাল ছুটির দিনে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও লাইনের শেষ প্রান্ত প্রধান সড়কে চলে আসছে। বরাদ্দ কম থাকা ও সরবরাহ অনিয়মিত হওয়ায় অনেক পাম্পে দ্রুত তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তেল বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করলেও বাস্তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। অনেক ক্ষেত্রে চালকরা লাইন ভেঙে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছে।
