
আমার কাগজ প্রতিবেদক
জুলাই বিপ্লবে সরকার পরিবর্তনের প্রভাব পড়েনি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ (জাগৃক) কার্যালয়ে। আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীরা শুধু বহাল থাকেনি, নানা ক‚টকৌশলে ক্ষমতা আরো সংহত করেছে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করছে বদলি বাণিজ্য। এ সুবাদে দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে জড়িতরা বাগিয়ে নিচ্ছেন প্রাইজ পোস্টিং।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকার পরিবর্তনের পর গত ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানে যেসব বদলি আদেশ হয়েছে, তার অধিকাংশ হয়েছে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে। আদেশগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করলেই অনিয়মের প্রমাণ মিলবে। যেমন বদলিকৃত কর্মকর্তাদের একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী দেবাইন চন্দ্র সরকার। তিনি বরিশাল-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথের নিকটাত্মীয়। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তিনি একটি দলের কর্মকান্ডে নিয়মিত প্রচারণা চালাতেন। খুলনা উপবিভাগে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকার পতনের পর তাকে প্রাইজ পোস্টিং দিয়ে ঢাকায় আনা হয়। শুধু তাই নয়, ঢাকা ডিভিশনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত মিরপুরে পদায়ন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের ট্যাগ লাগানো একজন কর্মকর্তা কিভাবে প্রাইজ পোস্টিং বাগিয়েছেনÑ তা নিয়ে ধান্ধায় সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শোনা যায়, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অসাধ্যকে সাধন করেছেন দেবাইন চন্দ্র সরকার।
আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী আরেক কর্মকর্তা আকলিমা খানম। তাকে সিলেট হাউজিং প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে ঢাকার মোহাম্মদপুর হাউজিং এস্টেটে পদায়ন করা হয়েছে। এটি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে হয়েছে বলে চাউর রয়েছে।
খুলনা হাউজিং এস্টেট প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুহুল আমিন আওয়ামী লীগ আমলে ভালো জায়গায় পদায়ন পেয়েছেন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে খুলনায় বদলি করা হয়। ছয় মাস না যেতেই তাকে মোটা টাকার বিনিময়ে আবার ঢাকার মিরপুর হাউজিং এস্টেটের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
আঞ্চলিক কোটায় বদলি হয়েছেন এসএম তারিকুল হাসান। তাকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ও নির্বাহী প্রকৌশলী পরিকল্পনা ও ডিজাইন ডিভিশন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ে (মিরপুর) পদায়ন করা হয়েছে।
আরেক দাপুটে কর্মকর্তা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমামুল। জানা যায়, ২০০৬ সালের শেষ দিকে তিনি চাকুরিতে যোগদানের পর টানা ১৮ বছর মিরপুর কার্যালয়ে থেকে ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছেন। অবশ্যি মাস খানেক আগে তাকে মোহাম্মদপুর কার্যালয়ে বদলি করা হয়।
এ ছাড়া মিরপুর হাউজিং এস্টেটের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামানের বিরুদ্ধে অনিয়মের একাধিক অভিযোগ থাকার পরও তাকে কুমিল্লা প্রশাসনিক কর্মকর্তার পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সেগুনবাগিচা দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তবে বদলি বাণিজ্যের শীর্ষে ‘ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা’ শাখা। জাগৃক অভ্যন্তরে এটি ‘মধুর হাড়ি’ হিসেবে পরিচিত। এ শাখায় দীর্ঘদিন ধরে থাকা হিসাব সহকারী মো. মাজেদুল ইসলামকে প্রায় ছয় মাস আগে ঢাকা ডিভিশন-২ মোহাম্মদপুর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে বদলি করা হয়। দুই মাস যেতে না যেতে তাকে প্রধান কার্যালয়ে উপ-পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) শাখায় সংযুক্ত করা হয়। জাদুবলে মাসান্তে তাকে পুরনো জায়গা ‘ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা’ শাখায় বদলি করা হয়। একইভাবে ‘ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা’ শাখায় দীর্ঘদিন ধরে থাকা ক্যাশিয়ার মো. জুলফিকার আলীকে সিলেটে বদলি করা হলেও চার মাসের ব্যবধানে ফের ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তিনি ই/এম ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে সেই মধুর হাড়ি ‘ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা’ শাখায় বদলির জন্য তোড়জোড় করছে বলে শোনা যায়।
ক্ষমতাশালী (!) আরেক অফিস সহায়ক মির্জা রউফ। নামের সাযুজ্যে যিনি প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আজমের নিকটাত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিগত দিনে ব্যাপক সুবিধা নিয়েছেন। ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখায় থেকে করেছেন অনেক অপকর্ম। তাকে মিরপুরে বদলি করা হলেও জাদুবলে চার মাসের ব্যবধানে পুরনো জায়গায় ফিরে এসেছেন।
অভিযোগের বিষয় জানতে জাগৃক সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কাজী আতিয়ুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।