আমার কাগজ ডেস্ক
লিবিয়ার সাবেক শাসক কর্নেল মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাতে পশ্চিম লিবিয়ার জিনতান শহরে নিজ বাড়িতে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। হত্যায় চার মুখোশধারী বন্দুকধারী অংশ নেয়। উচ্চশিক্ষিত সাইফ লিবিয়ার একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের নেতা ও দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন।
তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে বুধবার ইউরো নিউজ এ খবর জানিয়েছে। সূত্র জানায়, রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ১৩৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে জিনতান শহরে ৫৩ বছর বয়সী সাইফকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আইনজীবী খালেদ আল-জাইদি এক ফেসবুক পোস্টে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে শান্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সংলাপে গাদ্দাফির প্রতিনিধিত্বকারী আবদুল্লাহ ওথমান আবদুর রহিমও তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। স্থানীয় গণমাধ্যমকে আবদুর রহিম বলেন, সাইফকে সশস্ত্র বন্দুকধারীরা হত্যা করেছে, যারা স্পষ্টতই একটি হত্যাকাণ্ড ঘটাতে তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল।
গাদ্দাফির রাজনৈতিক দল পরে বিবৃতিতে জানায়, চার মুখোশধারী বন্দুকধারী জোরপূর্বক তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করে ‘কাপুরুষোচিত ও বিশ্বাসঘাতক’ উপায়ে তাঁকে হত্যা করে। হামলার সময়
সাইফের বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেয় দুর্বৃত্তরা। হত্যার ঘটনা দৃষ্টির অন্তরালে নিতেই তারা এমনটা করেছে। তারা সাইফের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছিল।
তবে সাইফের বোন একটু ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তিনি লিবিয়ার টিভিকে বলেন, সাইফ আলজেরিয়ার সীমান্তের কাছে নিহত হয়েছেন। ত্রিপোলিভিত্তিক উচ্চ রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রধান খালেদ আল-মিসরি এ হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, আনুষ্ঠানিক ভূমিকা না থাকা সত্ত্বেও সাইফ ২০১১-পরবর্তী লিবিয়ার রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী ব্যক্তিত্বদের একজন ছিলেন। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছিলেন, তাঁর মৃত্যু দেশের গাদ্দাফিপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে আরও উস্কে দিতে পারে।
১৯৭২ সালে ত্রিপোলিতে জন্মগ্রহণকারী সাইফ আল-ইসলাম ছিলেন মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির দ্বিতীয় ছেলে। তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। গাদ্দাফি ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তেলসমৃদ্ধ লিবিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন। তাঁর সময়ে আফ্রিকার দেশটি স্থিতিশীল ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ছিল। পরে ২০১১ সালে একটি বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে লিবিয়ায় হামলা চালায় পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটো।
মুয়াম্মার আল গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর লিবিয়া এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। দেশটিতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান ঘটতে থাকে, যারা একে অন্যের সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে। ন্যাটোর বিমান হামলা ও দেশের সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে বাবা ও আত্মীয়স্বজন হত্যা শিকার হলে সাইফ প্রতিবেশী নাইজারে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি জিনতানে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে ধরা পড়েন। পরে তাঁকে দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হয়।
