
খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গায় আল ফারুক সোসাইটিতে রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
খুলনা সংবাদদাতা
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘গণহত্যাকারীদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। কেন না রাজনীতি করতে হবে দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে, বাইরের কারও সাহায্য নিয়ে নয়।’
শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গায় আল ফারুক সোসাইটিতে খুলনা মহানগর ও জেলা জামায়াতের আয়োজিত রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলসহ সব পর্যায়ের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ তৈরি করে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিয়ে সম্মানের সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিদায় নিতে হবে। বছরের পর বছর দেরি করলে আগাছা জন্ম নিতে পারে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে, তৃতীয় শক্তির উদ্ভব হতে পারে।’
শিক্ষা সংস্কার কমিশনে আল্লাহকে ‘স্বীকার’ করেন না এমন লোকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষা সংস্কার কমিশনে কমপক্ষে একজন আলিয়া ও একজন কওমি নেসাবের আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’
বিডিআর বিদ্রোহের নামে ৫৭ সেনা সদস্য হত্যাসহ দেশের সব হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং এর মাস্টার মাইন্ডদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তা না হলে আবারো জালিমদের আগমন হতে পারে, তৃতীয় শক্তির উদ্ভব হতে পারে।’
জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগরী আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘মুমিনের জান ও মাল আল্লাহর কাছে বিক্রির যে শপথ করা হয়েছে সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েমের জন্য জামায়াতের প্রতিটি রোকনকে কাজ করতে হবে।’
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিগত ১৫ বছরের অনেক মজলুমের চোখের পানির ফসলই হচ্ছে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান। আওয়ামী লীগের ১৫ বছর আর মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের দুই বছর এই ১৭ বছরের জুলুম-নির্যাতনের পরও জামায়াতে ইসলামী এদেশের মানুষের প্রিয় সংগঠনে পরিণত হয়েছে শুধুমাত্র আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস আর আস্থার কারণে।’
সদস্য সম্মেলনে বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, খুলনা জেলা আমীর মাওলানা মুহাম্মদ এমরান হুসাইন, মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ও মুন্সি মিজানুর রহমান।