কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে হিমেল (২৪) নামে এক মহেন্দ্র ট্রাক্টর চালকের বিষ জাতীয় পদার্থ পানে মৃত্যু হয়েছে।
২৩ মার্চ (সোমবার) উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের বানিয়াগ্রাম বাজার সংলগ্ন একটি ভাড়া বাড়িতে সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, নিহত হিমেল আচমিতা ইউনিয়নের গণেরগাঁও গ্রামের মোঃ মঈন উদ্দিন ওরফে মনু মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের দাবি পুত্রবধূ মায়মুনার সাথে অভিমান করে রাগ ও ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে জনৈক মান্নানের ভাড়া বাসায় বিষ জাতীয় পদার্থ পান করে আত্মহত্যা করে হিমেল।
এতে নিহতের পিতা মইনুদ্দিন ওরফে মনু মিয়া বাদী হয়ে কটিয়াদী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানান সংবাদকর্মীদের।
তবে নিহত শ্রমিকের স্ত্রী মায়মুনার দাবি আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ এখনো সে জানে না।
জানা যায়, মায়মুনা ও হিমেলের পাঁচ বছরের সংসারে প্রায় দেড় বছর বয়সী একটি কন্যা শিশু রয়েছে। দু’জনে সম্পর্ক করে বিয়ে করেছিল। একটি স’মিলের গাছ বহনের মহিন্দ্র টাক্টরের চালক হিসেবে কাজ করতো হিমেল। বাবা-মার সাথে না থেকে ভাড়া বাসায় স্ত্রী সন্তানসহ বসবাস করতো। সাংসারিক মনোমানিল্যের জেরে দু’জনের বেশ দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল। মায়মুনা মাসখানেক ধরেই পিতার বাড়িতে অবস্থান করছিল। মায়মুনার মা প্রবাসে থাকে। বাবা ঢাকায় কাজ করে।
নিহত হিমেলের মায়ের দাবি মায়মুনাকে সংসারে ফেরানোর জন্য থানায় অভিযোগও করেছিল হিমেল। তারপরেও সে সংসারে ফিরছিলোনা। বউকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য শ্বশুরবাড়িতে অনেক আকুতি মিনতিও করেছিল সে। তার আশঙ্কা ছিল স্ত্রী মায়মুনাকে শাশুরির মতো প্রবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে।
এদিকে স্ত্রী মায়মুনার দাবি ঘটনার দিন কোনো ঝামেলা হয়নি। শিশু কন্যাকে দশ হাজার টাকা থেকে এক হাজার টাকাও দিয়ে গেছিল হিমেল। স্ত্রীর দাবি হিমেল নেশাপানি করতো। আর এজন্যই সে স্বামীর সংসারো ফিরছিলোনা। তবে হিমেলের মায়ের দাবি তার ছেলে কখনো নেশাপানি করতো না। অভাবের সংসারে মানসিকভাবে টর্চার করা হতো হিমেলকে। সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যা করে সে।
এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মরদেহের পোস্টমর্টেম করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।”
