আমার কাগজ প্রতিবেদক
দেশের পাড়া-মহল্লা, গ্রাম-শহর, সড়ক কিংবা বন্দর; সব খানের আলোচনায় ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট। তফসিল অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ১ হাজার ৯৭২ জন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে নির্বাচনি প্রচার শুরু করার কথা। যদিও গতকাল বুধবার সকালে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে অনেক প্রার্থী প্রচারে নেমে পড়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এ বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তৎকর্তৃক মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাহাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ সময়ের পূর্বে কোনো প্রকার নির্বাচনি প্রচার শুরু করতে পারবেন না এবং ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে নির্বাচনি প্রচারণা সমাপ্ত করবেন। অর্থাৎ, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রচার চালানো যাবে।
নির্বাচনি প্রচারে আচরণ বিধিমালা অনুসরণ করতে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের অনুরোধ জানিয়েছে ইসি। এ প্রচারণার মধ্য দৃশ্যত দিয়ে নির্বাচনি মাঠের লড়াই শুরু হচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় থেকে মাঠ পর্যায়ের নেতা ও কর্মীরা এ প্রচার-প্রচারণা চালাবেন। ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা ও তাদের সমর্থকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইবেন আজ থেকে। টানা দেড় দশকের স্থবিরতা কাটিয়ে ভালো ভোটের প্রত্যাশা সাধারণ ভোটারদেরও।
এ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থীদের বুধবার প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন সংশিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। রাজনৈতিক দল মনোনীত প্রার্থীদের স্ব স্ব দলের নির্ধারিত প্রতীক দেওয়া হয়েছে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক দেওয়া হয়েছে ইসির নির্ধারিত তালিকা থেকে। ওই প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে তারা প্রচারে নেমে পড়েছেন। অন্যদিকে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও প্রচারে বিধি লঙ্ঘন নিয়ে একদল আরেকদলের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযোগ শুরু করেছেন।
আজ প্রচার শুরুর প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেবেন। এটাই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি জনসভা। সড়ক পথে ঢাকায় আসতে তিনি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ কয়েকটি জেলায় সাতটি জনসভায় বক্তৃতা করবেন। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজ নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুর-১০ নম্বরে প্রথম নির্বাচনি জনসভা করবেন। এরপর তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনি প্রচার চালাতে যাবেন।
তিন নেতার মাজার (শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম) ও ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচার শুরু করবেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। একইভাবে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা এদিন নির্বাচনি প্রচার শুরু করবেন।
ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই হাজার ৫৮০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও ২৯৮টি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী রয়েছেন এক হাজার ৯৭২ জন। নির্বাচনি ব্যালটে এসব প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক দেশের ২৯৮টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছে ঢাকা–১২ আসনে, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৫ জন। আর সবচেয়ে কম প্রার্থী পিরোজপুর–১ আসনে। এ ছাড়া দেশের ৩১টি আসনে ১০ জন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। ফলে এসব আসনে ভোটের মাঠে তুমুল লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইসি বলছে, প্রার্থী যত বেশি, প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তত বেশি হবে।
আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর ক্ষেত্রে কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্ধারিত সময়ের পরে ব্যালট পাঠালে তা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছাতে বিলম্ব হতে পারে, যার ফলে ভোটটি গণনায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ভোট প্রদান সম্পন্ন করে পোস্ট অফিসে ব্যালট জমা দেওয়ার জন্য প্রবাসীদের জরুরি আহ্বান জানিয়েছে ইসি।
প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী জনসভা করতে চাইলে প্রস্তাবিত সভার কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে স্থান ও সময় সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। জনসভাস্থলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং চলাচলের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ ছাড়া প্রচারণা শুরুর আগে রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে তাদের কর্মসূচি প্রস্তাব আকারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। যদি একই স্থানে ও সময়ে একাধিক দল কর্মসূচি পালনের আবেদন করে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা সমন্বয় করবে। প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কমিশন।
তফসিল ঘোষণার পর থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ৭৫ জন প্রার্থীকে শোকজ ও সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে এবং সাতজনকে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে জরিমানা করেছে। নির্বাচনি মাঠে সার্বক্ষণিক তদারকিতে রয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির সদস্যরা। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইকিং করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনি পরিসংখ্যান ও অংশগ্রহণ বিগত ১৫ বছর আওয়ামী শাসনামলে একতরফা নির্বাচনের কারণে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে যে অনীহা ছিল, এবার তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিএনপি-জামায়াতসহ মোট ৪৯টি দল ও বিপুল স্বতন্ত্র প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ভোটকেন্দ্র ও ভোটার তথ্য নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যমতে, ১২ কোটি ৭৭ লাখ ২৪ হাজার ৭১৮ জন ভোটার এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৮৯টি, যার মধ্যে ১৩টি অস্থায়ী কেন্দ্র রয়েছে। ভোটকক্ষ ও গোপন কক্ষের সংখ্যা যথাক্রমে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি এবং ৪ লাখ ৩১ হাজার ২০৮টি।
প্রচারে যা মানতে হবে
ভোটের প্রচারে ড্রোন, পোস্টার ব্যবহার, বিদেশে প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২০টির বেশি বিলবোর্ডে মানা, একমঞ্চে ইশতেহার ঘোষণা ও আচরণবিধি মানতে প্রার্থী ও দলের অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোটের প্রচারে কড়াকড়ি আরোপ, অসৎ উদ্দেশে এআই ব্যবহারে মানা, পোস্টার ও ড্রোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাসহ কি করা যাবে, কি করা যাবে না, তা তুলে ধরা হয়েছে এ বিধিমালায়।
আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা এবং দলের জন্য দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও রয়েছে ইসির।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণা
কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্ট বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা পরিচালনা করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্ট বা দল বা প্রার্থী সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইল আইডিসহ অন্যান্য শনাক্তকরণ তথ্যাদি উক্তরূপে প্রচার-প্রচারণা শুরুর পূর্বে রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করতে হবে ও প্রচার-প্রচারণাসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা যাবে না।
ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ভুল তথ্য, কারো চেহারা বিকৃত করা ও নির্বাচন সংক্রান্ত বানোয়াট তথ্যসহ সব ধরনের ক্ষতিকর কনটেন্ট বানানো ও প্রচার করা যাবে না; প্রতিপক্ষ, নারী, সংখ্যালঘু বা অন্য কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না; নির্বাচনি স্বার্থ হাসিল করার জন্য ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করা যাবে না; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত সব কনটেন্ট শেয়ার ও প্রকাশ করার পূর্বে সত্যতা যাচাই করতে হবে; রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি, ভোটারদের বিভ্রান্ত করার জন্য কিংবা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কোনো প্রার্থী বা ব্যক্তির চরিত্রহনন কিংবা সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে, সাধারণভাবে বা সম্পাদন (এডিট) করে কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলেজেন্স (এআই) দিয়ে কোনো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, পক্ষপাতমূলক, বিদ্বেষপূর্ণ, অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ এবং মানহানিকর কোনো আধেয় (কনটেন্ট) তৈরি, প্রকাশ, প্রচার ও শেয়ার করতে পারবেন না।
আচরণবিধিতে আরও রয়েছে—কোনো দল বা প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশে জনসভা, পথসভা, সভা-সমাবেশ বা কোনো প্রচারণা করতে পারবে না। ভোটের প্রচারে থাকছে না পোস্টারের ব্যবহার। একজন প্রার্থী তার সংসদীয় আসনে ২০টির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবে না; যার দৈর্ঘ্য হবে সর্বোচ্চ ১৬ ফুট আর প্রস্থ ৯ ফুট। নির্বাচনের দিন ও প্রচারের সময় কোনো ধরনের ড্রোন, কোয়াডকপ্টার বা এ জাতীয় যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো প্রার্থী ও প্রতিষ্ঠান ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে পারবে। তবে ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদের নাম ও প্রতীক উল্লেখ করতে পারবে না।
বিলবোর্ডে শুধু যেগুলো ডিজিটাল বিলবোর্ড, সেগুলোতে আলোর ব্যবহার করা যাবে। বিদ্যুতের ব্যবহার করা যাবে। তাছাড়া আলোকসজ্জার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেটে পলিথিনের আবরণ নয়, প্লাস্টিক (পিভিসি) ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না। সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তালিকায় অন্তর্বর্তী/তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদেরও যোগ করা হয়েছে। ফলে তারা প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামতে পারবেন না। প্রচারে পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়েছে; প্রচার সামগ্রীতে পলিথিন, রেকসিনের ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। প্রচারের সময় শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলে রাখতে হবে। আচরণবিধি মেনে চলার ব্যাপারে প্রার্থী ও দলের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামাও দিতে হবে। আচরণবিধির ‘গুরুতর’ অপরাধের ক্ষেত্রে আরপিওতে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া গণমাধ্যমের সংলাপ ও সব প্রার্থীর এক মঞ্চে ইশতেহার ঘোষণার সুযোগ রাখা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট আসনে সব প্রার্থীকে নিয়ে একদিনে তাদের ইশতেহার বা ঘোষণাপত্রগুলো পাঠ করার ব্যবস্থা করবেন।
নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও সাবেক নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলী এ বিষয়ে বলেন, প্রতীক বরাদ্দ হয়ে গেছে। এখন নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করাই ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
