আহত বাদী হবির নিকলী সদর হাসপাতালে, কার্যালয় ভাংচুর ও মানববন্ধন
হাওর অঞ্চল প্রতিনিধি
নানান টালবাহানা ও অজুহাতের পরে বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় নিকলী থানা পুলিশ অবশেষে মামলা নিলেন বিতর্কিত বিএনপি নেতা ইন্নছ আলী ও তার সাঙ্গপাঙ্গের নামে। ১৭ জানুয়ারির নিকলী থানার মামলা নং-১ বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের গুপিরায়ের বাজারের নামে স্কুল মাঠের গরুর হাটের ইজারাদার বনে যাওয়ার লক্ষ্যে দলীয় লোকজনকে পরিকল্পিতভাবে মারধরের পাশাপাশি অফিস ভাংচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলর জারইতলার বিএনপির অফিস ও তার সম্মুখে! জানা গেছে জেলার বৃহৎগরু হাটের জমাকৃত এলাকাবাসীর ফান্ডের ১৮ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে আলীগ নেতাকর্মীদের যোগসাজশে দলীয় অফিসের ভেতরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির লক্ষ্যে কথাকাটাকাটি বাঁধিয়ে প্রতিবাদকারীদের উপর একপর্যায়ে মারধর করেছেন ইন্নছ আলী, তার ছেলেপুলে, ভাই-ভাতিজাসহ আ’লীগ নেতাকর্মী মিলে।
এ সময়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হবি ও নজরুল ইসলাম গুরুতরভাবে আহত হলে নিকলী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়াও বেশ কয়েকজন খিল ঘুষিতে আহত ও লাঞ্ছিত হয়। থানা কার্যালয়ে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিও ভাংচুর করে। একই দিনে এ ঘটনায় এলাকাতে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এর প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করে। এ সময়ে আ’লীগ দোসর উল্লেখ করে ইন্নছ আলী ও তার সাথে জড়িত আ’লীগ নেতাকর্মীদের শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি বিতর্কিত বলে ইনুকে উল্লেখ করেন স্থানীয়ভাবে ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন পদধারী নেতাদের মধ্যে সহ-সভাপতি কামরুল হাসান রিগেন, সাংগঠনিক নয়নসহ জসীম, সাইফুল ইসলাম, ছাত্রদল সভাপতি মামুন, নজরুল ইসলাম, আক্কাস আলী, শুক্কুর আলী, দীনইসলাম ও বয়োবৃদ্ধ বাশু এবং কুদ্দুস আলীর মতো স্থানীয় অনেক নেতাকর্মীই ইন্নছ আলীর শাস্তি ও দলীয় পদত্যাগের দাবি তোলেন। ইন্নছ আলী অলিখিত আ’লীগ বলে স্থানীয় সংসদ সদস্য আফজাল সাথে ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) এক সময়ে ভাইরাল। বর্তমান ইউনিয়ন বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক। ঘটনায় পরপরই ১২ তারিখ রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরেও মামলা না নিয়ে বিএনপির কাউন্সিলসহ নানান অজুহাতে থানা কর্তৃপক্ষ সময় অতিবাহিত করেছেন বলে নেতাকর্মীরা জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুল মোমেন মিঠু কাউন্সিল পরবর্তীতে বিষয়টি দেখবেন আশ্বাসেও সময় ক্ষেপণ করেছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজনসহ গুপিরায় বাজারের সাথে সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাষ্য: গরুর হাট থেকে টাকা দিয়ে আ’লীগ ধূসর ইন্নছ আলী ও সন্ত্রাসী আ’লীগ নেতাকর্মীদের বাঁচানোর চেষ্টা চালায় উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির সুবিধাভোগী নেতাদের মাধ্যমে। হাটটি এখনো আ’লীগ নেতাকর্মীদের দখলেই রয়েছে বলেও বিএনপির লোকেরা উল্লেখ করেন। তবে আ’লীগের ধুসর ইন্নছ আলীর নামে এই প্রথম ইজারা নিতে নীল নকশা তৈরি করেন নেপথ্যে আ’লীগ নেতারা। স্থানীয়দের তথ্যমতে গুঞ্জন রয়েছে লুটপাটের সাথে সরাসরি জড়িত প্রভাবশালী ইন্নছ আলীকে মামলা থেকে বাঁচাতে গরু হাট থেকে টাকা নিয়ে একট্র হয়েছে আলীগ নেতারা। লেনদেন চলছে একাধিক মহলে। যে কারণে মামলা নিতে বিলম্ব। অবশেষে পুলিশের উপর মহলে ঘটনাটি জানানোর পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশাসনে টনক নড়ে আর ১৭ জানুয়ারি রাত ০০: ৩০ মিনিটে নিকলী থানা পুলিশ হাবিবুর রহমান হবির স্বাক্ষরিত মামলাটি আমলে নেয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেন বাদী ও তার স্বজনেরা। এই মামলায় চিহ্নিত আসামি করা হয় মোট ৭ জনকে আর অজ্ঞাতনামায় ২০/২৫ জনের নাম এজাহারে উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। দুই ধাপে অফিসের আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও উল্লেখ রয়েছে।
১২ জানুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকের ঘটনায় ইন্নছ আলী ও তার লোকেরা অফিসে ভাংচুরের কথা অস্বীকার করেছেন। তবে জসীমকে অফিসের ভেতর মারতে গেলে হবির মাথায় আঘাত পায় এমন কথা স্বীকার করেন।
মামলার বাদি হাবিবুর রহমান বলেন, তাকে মারধর ও ভাংচুরের ঘটনায় নিকলী থানাতে অনেক কিছুর পরে মামলাটি নিয়েছে। আ’লীগ দোসর উল্লেখ করে ইন্নছ আলী ও তার সাথে জড়িত আ’লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের দাবিও জানান তিনি।
নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুল মোমেন মিঠু কেন মামলা রুজু করার বিষয়ে পরদিন ইঙ্গিত করেন বাদীর কথামতে তাৎক্ষণিক এমন কারণ জানার লক্ষ্যেই ১০টা বেজে ১৮ মিনিটে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
নিকলী থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিন এক প্রশ্নের জবাবে তদন্ত সাপেক্ষেই মামলা নেয়া হয়েছে এবং গ্রেফতার অভিযান কার্যক্রম চলমান বলেও উল্লেখ করেছেন।
নিকলী বাজিতপুর থানার সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ ১৭ জানুয়ারি দুপুরের দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী (বিপিএম) মামলাটির বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়ার বিষয়েও আশ্বস্ত করেন মামলা রুজুর আগে মুহূর্তে।
