• রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১১:০৫ অপরাহ্ন

৬-৭ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে সুন্দরবন

প্রতিবেদকের নাম / ২৪ শেয়ার
প্রকাশিত : রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২২

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি রোববার সকালে নিম্নচাপে রূপান্তরিত হয়েছে। এতে দুপুরের দিকে ৬-৭ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে গোটা সুন্দরবন।

সুন্দরবনের সবচেয়ে উঁচু এলাকা চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও ট্যুরিজম কেন্দ্রটিও চার ফুট পানির নিচে। তবে প্রজনন কেন্দ্রের প্রাণীরা এখনো নিরাপদ রয়েছে।

বর্তমানে পর্যটনসহ সব ধরনের বনজীবীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় জলোচ্ছ্বাসের পানির তোড়ে সুন্দরবনের বাঘ-হরিণসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর ভাগ্যে কী ঘটেছে তা কোনো সূত্র থেকে জানা সম্ভব হয়নি।

তিন মাসে আগে পানির তোড়ে টিকতে না পেরে সুন্দরবন বিভাগের লোকালয়ে ঢুকে পড়ে বাঘ, হরিণ ও অজগরসহ ৫০টির অধিক বন্যপ্রাণী। এছাড়া গত বছরের মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বাগেরহাটের শরণখোলার বলেশ্বর নদীতে মৃত অবস্থায় ভেসে আসা তিনটি হরিণ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

সুন্দরবন বিভাগ বলছে, জলোচ্ছ্বাসে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও ট্যুরিজম কেন্দ্রে বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই থেকে আড়াই ফুট পানিতে তলিয়ে যায়। শুক্রবার দুপুরে জোয়ারে পানি তিন ফুটের অধিক বেড়ে গোটা এলাকা তলিয়ে গেছে।

শনিবারও একইভাবে পানির উচ্চতা অব্যাহত থাকলে রোববার সকালে লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নেয়। জলোচ্ছ্বাসের কারণে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও ট্যুরিজম কেন্দ্রটিও পানিতে থৈ থৈ করছে। তবে এখনো করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের হরিণ, কুমির ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির কচ্ছপ ‘বাটাগুর বাসকা’ নিরাপদ রয়েছে।

সুন্দরবন বিভাগ দাবি করছে, জলবায়ু পরিবর্তনসহ ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের সময় ম্যানগ্রোভ এ বনে ৮৫টি পুকুরের উঁচু পাড়সহ বন বিভাগের অফিস ও টহল ফাঁড়ির উঁচু এলাকায় বন্যপ্রাণীরা আশ্রয় নিয়ে থাকে।

বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ (বিশ্ব ঐতিহ্য) সাইটে শুষ্ক মৌসুমে উঁচু মাটির টিলা বা কিল্লা নির্মাণ কাজ শেষে হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বন্যপ্রাণীদের আরও নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, গেল কয়েক দিন ধরে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের থেকে তিন-চার ফুট বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রজনন কেন্দ্রের রাস্তাসহ সুন্দরবনের বেশিরভাগ এলাকা দিনে দুবার প্লাবিত হচ্ছে। তবে কোনো বন্যপ্রাণীর ক্ষতি হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ