• রবিবার, ২৯ মে ২০২২, ০৫:১৬ অপরাহ্ন

স্কুলে যাওয়ার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে তিন ছাত্রী নিহত

প্রতিবেদকের নাম / ৭১ শেয়ার
প্রকাশিত : বুধবার, ৯ মার্চ, ২০২২

কুমিল্লা প্রতিনিধি:
স্কুলে যাওয়ার সময় কুমিল্লায় ট্রেনে কাটা পড়ে তিন ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

বুধবার বেলা ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল সড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর লেভেল ক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো- লিমা আক্তার, তাসফিয়া আক্তার ও মিম আক্তার। তিনজনেরই বয়স ১১-১২ বছরের মধ্যে।

ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাবলু ঘটনাস্থলে একটি ফুটওভার ব্রিজ স্থাপনের আশ্বাস দিলে জনতা অবরোধ তুলে নেয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন খন্দকার জানান, বেলা ১২টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহগামী ‘বিজয় এক্সপ্রেস’ ট্রেনে কাটা পড়লে ঘটনাস্থলেই তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়। তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

জসিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনার পর থেকে বিক্ষুব্ধ জনতা কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে। আমরা এলাকাবাসীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি। তদের আশ্বস্ত করি। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, নিহতদের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিজয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদেকুর রহমান জানান, নিহতরা সবাই ওই বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তো।

বাংলাদেশ রেলওয়ের কুমিল্লার ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) লিয়াকত আলী মজুমদার জানান, দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র ও জনতা রেলগেট এবং স্কুলে ভাঙচুর চালায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কও বন্ধ করে দেয় তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকায় আর্মড পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, মরদেহ দাফনের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া পরিবারগুলোকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এ ঘটনায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহম্মেদ বলেন, এটি খুবই হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। নিহত শিশুদের তো আমরা ফিরিয়ে দিতে পারব না, তবে তাদের পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করার চেষ্টা থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ