• বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১২:২৫ অপরাহ্ন

‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’ এবং ‘বিপন্ন গণতন্ত্র লাঞ্ছিত মানবতা’ : গ্রন্থদ্বয়ের পর্যালোচনা

ড. ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ / ৪৭ শেয়ার
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট, ২০২২

একজন সাধারণ লেখক ও পাঠক হিসেবে শিরোনামে বর্ণিত গ্রন্থ দুটি পাঠ করেছি। পাঠান্তে বিভিন্ন সময়ে বন্ধু বান্ধব, সহকর্মী, শিক্ষক ও গুরুজনদের সাথে মতবিনিময় করেছি। যেভাবে গ্রন্থ দুটি আমাকে আপ্লুত ও আকৃষ্ট করেছে এবং গ্রন্থ দুটির অন্তর্নিহিত বিষয় প্রলুব্ধ, চেতনাসমৃদ্ধ ও উৎসাহিত করেছে-সে প্রেরণায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতিক দর্শন ও চিন্তা চেতনাগত তথ্যাদির আলোকে একটি বিশ্লেষণাত্মক দিক তুলে ধরতে প্রয়াসী হয়েছি। এমনকি এ লেখায় তাঁর ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব, সাহস ও দূরদর্শী ঘটনার প্রেক্ষাপটসমূহকে সংক্ষিপ্ত পরিসরে বিধৃত করা হয়েছে।
‘বিপন্ন গণতন্ত্র লাঞ্ছিত মানবতা’ ভূমিকা অংশ থেকে দুটি উদ্ধৃতি তুলে ধরা হলো-“আমি যখন আমার দেশের মানুষের কথা ভাবি, ব্যথায় আমার বুক ভেঙে যায়। তাদের দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণা আমি মরমে উপলব্ধি করি। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘ চব্বিশটি বছর সংগ্রাম করেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। স্বাধীন জাতির স্বাধীন সত্তার উপর তিনি এ দেশকে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরাজিত শক্তি ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার আর বারবার আঘাত করে দেশকে পিছিয়ে নিচ্ছে। যখনই আমরা সংগ্রাম করে, লড়াই করে এগোতে চেষ্টা করছি, হয়তো একটু এগোচ্ছি। এবং এদেশের দুঃখী, সাধারণ মানুষ নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে, তখনই আবার আঘাত এসেছে। বাঙালি জাতিকে কি যুগ যুগ ধরে বার বার সংগ্রাম করেই যেতে হবে”?
“আমি লেখক নই, প্রবন্ধকার নই, দেশকে ভালবাসি, দেশের মাটি ও মানুষকে ভালবাসি। মানুষের জন্য প্রাণের টানে কাজ করে যাচ্ছি। আমি চাই আমাদের দেশের মানুষ সুন্দর জীবন-যাপন করুক। শান্তিতে বসবাস করবে, উন্নত জীবন পাবে। সুখ, শান্তি সমৃদ্ধিতে ভরে উঠবে বাংলাদেশ। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যখনই কোন বিষয় নজরে এসেছে চেষ্টা করেছি কলম ধরতে। জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার আন্দোলন করেছি। পাঁচ বছর সফলভাবে দেশ পরিচালনা করে মানুষকে নতুনভাবে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখাতে পেরেছিলাম, সেটাই আমাদের সার্থকতা। কিন্তু দু:খের বিষয়, দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে”।
উপরের উদ্ধৃতির আলোকে আমরা একজন স্বাপ্নিক প্রধানমন্ত্রীকে অবলোকন করার সুযোগ পাচ্ছি। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রজ্ঞা, দক্ষতা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে অবহিত হতে পারছি।
‘বিপন্ন গণতন্ত্র লাঞ্ছিত মানবতা’ গ্রন্থের নির্বাচনে ভোট কারচুপির পদ্ধতি গ্রহণে ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনের দিনে কি হয়েছে? থেকে উদ্ধৃত অংশ-“যে সকল ভোটার নির্বাচনের দিনে ভোট কেন্দ্রে গিয়েছে এবং লাইনে দাঁড়িয়েছে হঠাৎ করে লাইনের ওপর হামলা করা হয়েছে যাতে ভোটাররা ভোট না দিয়ে জীবন বাঁচাতে সরে পড়ে। বুকে নৌকার ব্যাচ দেখলেই সেই ভোটারদের অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে ফলে অন্য ভোটাররা ব্যাচ খুলে ফেলেছে এবং ভোট না দিয়ে চলে গেছে। বেধড়ক লাঠিপেটা করা হয়েছে। এ অত্যাচার থেকে মহিলা ভোটাররাও রেহাই পায়নি। মহিলা এজেন্টদেরও অপমান করা হয়েছে। ভোট কেন্দ্রের অভ্যন্তরে কি ঘটেছে? এসব ঘটনা একটা নির্বাচনী এলাকার সকল ভোট কেন্দ্রে ঘটেনি। দশ থেকে পনেরোটা ভোট কেন্দ্রে একশত চল্লিশ অথবা একশত পঁযতাল্লিশটি নির্বাচনী এলাকায়। বিশেষ করে যেসকল নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে অল্প ভোটে জিতেছে এবং ভোটের ব্যবধানে হেরেছে সেখানে এবারের নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা ছিল। তাছাড়া মন্ত্রী পরিষদের সদস্যসহ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে চিহ্নিত করে তাদের নির্বাচনী এলাকায় এই ধরনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া প্রয়োগ করে আওয়ামী লীগকে হারানো হয়েছে”।
উপরের উদ্ধৃতির আলোকে প্রতীয়মান হয় যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকার ও বঞ্চনার বিষয়ে সচেতনভাবে কারচুপি নির্বাচনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। ভোটকেন্দ্রে দলীয় প্রভাব, পেশীশক্তি প্রদর্শন, সন্ত্রাস, বিশৃঙ্খলা, উৎপাত ও অন্যায় আচরণ যেন কখনোই প্রতিষ্ঠা না পায় সে কথা তিনি সবসময় দৃঢ়তার সাথে বলে থাকেন। তা নিয়ে কারো মনে দ্বিধা বা সংশয় থাকার কথা নয়।
‘বিপন্ন গণতন্ত্র লাঞ্ছিত মানবতা’ নির্বাচনে ভোট কারচুপির পদ্ধতি গ্রহণে মিডিয়া ক্যু থেকে উদ্ধৃত অংশ- “প্রধান নির্বাচন কমিশনে আমাদের যে কমিটি দায়িত্বে ছিল তারা সেখানে যে অনিয়ম দেখে তার প্রতিবাদ জানায়। কিন্তু প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিকার পাবে কার কাছে? যারা প্রতিকার করবে তারা নিজেরাই এর সঙ্গে জড়িত। একজন প্রাক্তন সচিব, ছাত্ররাজনীতিতে চৈনিকপন্থী ছিলেন। স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিদেশে ডক্টরেট ডিগ্রি আনতে যান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদেশে পাঠিয়েছিলেন উচ্চতর শিক্ষার জন্য। আমাদের সরকারের আমলে চারদিনের অনুমতি নিয়ে নেপালে একটা সেমিনারে যান, সেখানে থেকে সরকারের অনুমতি ছাড়া দুই মাসের অধিক আমেরিকায় অবস্থান করেন। সরকারি চাকরি ক্ষেত্রে এটা গর্হিত কাজ। ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং হতে পারে। সেটাই নিয়ম। মুক্তিযোদ্ধা তাই কঠোর পদক্ষেপ না নিয়ে, যেহেতু চাকরিতে পঁচিশ বছর হয়ে গেছে তাই সসম্মানে বিদায় দেয়াটাই সমীচীন মনে করি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে কেউ অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। অন্তত সে যে অন্যায় করেছে তা বুঝতে দেয়া উচিত। সেই কর্মকর্তা আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে কয়েক বছর ধরে সক্রিয় থাকেন এবং নির্বাচনের দিন আরও দুজন কর্তব্যরত সচিব নিয়ে নির্বাচন কমিশনে রাত ১১ টার পর থেকে উপস্থিত হন এবং নির্বাচন কমিশনের সচিবের ঘরে বসে ফলাফল মনিটর করেন। যদিও এখানে তাদের থাকার কথা নয়। নির্বাচনী ফলাফলে কতটা প্রভাব খাটিয়েছে তা সহজেই অনুমেয়”।
উপরের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এটা স্পষ্ট যে, নির্বাচনে অনিয়ম, ভোট ডাকাতি, স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের প্রভাব বা উচু মহলের সংশ্লিষ্টতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরই অগ্রাহ্য করে থাকেন। অধিকন্তু নির্বাচনের ফলাফলেও নির্দলীয় ও অবাধ নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ বা নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কৃতিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন। ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে কোন খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে- এ ধরণের খারাপ সংস্কৃতিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কখনোই প্রশ্রয় দেন না।
‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’ গ্রন্থের পূর্বকথা থেকে উদ্ধৃত অংশ- “আন্দোলন হয়েছে, অনেক রক্ত ঝরেছে, অনেক মূল্যবান জীবন হারিয়েছে–আর কেন বিভেদ-বৈষম্য? মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও চেতনার অনুসারী আমরা কেন পারব না এই সমাজ ও দেশকে সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল ধারায় নিয়ে যেতে? বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে কেন মানবেতর জীবন-যাপন করতে হবে? দেশ থেকে দারিদ্র্য, অশিক্ষা, সন্ত্রাস ও অনাচার দূর করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। সমগ্র বিশ্বে নিজ নিজ দেশে আজ সবাই জনশক্তিকে জাতীয় উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত করে সমৃদ্ধময় দেশ এবং স্বস্তি ও আনন্দময় জীবন গড়ে তুলছে। আমরাই-বা কেন পারব না? আমাদেরও মেধা ও শ্রমশীল জনশক্তি রয়েছে। আমাদেরও মানবিক মূল্যবোধ রয়েছে। আমার আহ্বান থাকল, আমরা যারা রাজনীতি করি, যারা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত, যারা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণ চান– আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। এই গ্রস্থের পাঠক-পাঠিকার প্রতিও আমার সেই আন্তরিক আহ্বান রইল”।
‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’ গ্রন্থে দেশ ও জাতির স্থিতি আনতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে উদ্ধৃত অংশ-“আমি আপনাদের বলতে চাই, নির্বাচনী এই সংগ্রামে আজ জনতার যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তাকে যদি অন্য খাতে প্রবাহিত করার কোনো অপচেষ্টা গ্রহণ করা হয় জনতার সংগ্রামের মধ্যে দিয়েই আমরা তার জবাব দেব। আমরা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। নির্বাচনের ফলাফলকে কারচুপি বা অন্য কোনো পন্থায় নস্যাৎ করার চেষ্টা হলে আমরা যে কোনো মূল্যে তা প্রতিরোধ করব। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে”।
এ গ্রন্থের জাতীয় রাজনীতি থেকে অস্ত্রের খেলা বন্ধ করতে হবে থেকে উদ্ধৃত অংশ-“দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে যে খেলা চলছে অস্ত্র নিয়ে তার পিছনে কারণ কী? রাজনীতি যারা করে, জনগণের কথা বলো জনগণের মধ্যে দিয়ে জনগণের ‘ম্যান্ডেট’ নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়াটাই হচ্ছে রীতি। কিন্তু অস্ত্রকে হাতে নিয়ে অস্ত্রকে সম্বল করে ষড়যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে আগে ক্ষমতায় আসা, আর ক্ষমতায় বসে থেকে রাজনীতিতে অবতরণ করা, আর রাজনীতিতে অবতরণ করে রাজনৈতিক দল গঠন করা, যুবসমাজের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তাদেরকে ব্যবহার করা এবং এই দল গঠনের জন্য তাদেরকে ব্যবহার করে উদ্দেশ্য চরিতার্থ করবার যে খেলা শুরু হয়েছে, শিক্ষা অঙ্গনে অস্ত্র প্রবেশের সেটাই আসল পথ এবং তারই প্রতিফলন ঘটছে প্রতিটি শিক্ষা অঙ্গনে, যেটা আমরা সব সময় দেখতে পাচ্ছি”।
উপরের উদ্ধৃতাংশের আলোকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জাতির স্বার্থকে বড় করে ভাবতে নিরন্তর মানুষকে প্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া সহিংসতা ভেদাভেদ নীতির উর্ধ্বে থেকে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, সততা আর দায়িত্বশীলতার সাথে সমাজ গঠনের ভ‚মিকা রাখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য সর্বদা অনুপ্রেরণার অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। অধিকন্তু সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলকেই সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের কথাসহ ন্যায় নৈতিকতায় মানবিক মূল্যবোধে দেশ পরিচালনায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছেন।
সবশেষে ‘সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই কেবল মানবাধিকার নিশ্চিত করতে পারে’ থেকে উদ্ধৃত অংশ-“এটা প্রশংসনীয় যে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন অবৈধ গ্রেফতার, বিচারবিহীন আটক, অত্যাচার ও নৃশংসতা থেকে মানুষকে রক্ষা করতে চায়। আমাদেরকে অবশ্যই এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে নজর দিতে হবে, যে ব্যবস্থা এ ধরনের মানবাধিকার লংঘন রোধ করে। দুর্গত নারী-পুরুষ ও শিশুর জন্য আত্মনিবেদিত সংস্থা আন্তর্জাতিক রেডক্রস সমিতি অথবা আ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনালের আমি প্রশংসা করি। কিন্তু তারা মানবাধিকার লংঘনের দৃষ্টান্তের মোকাবিলা করে- মানবাধিকার লঙ্ঘনের উৎসের মোকাবেলা করে না। আমি আশা করি, এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন আরো গভীরভাবে কাজ করবে এবং আমাদের মৌলিক অধিকার লংঘনের কারণগুলো খতিয়ে দেখবে”।
উপরের উদ্ধৃতির আলোকে এ কথা স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে একজন উদার ও মানবতাবাদী মানুষ। মানবতা লঙ্ঘিত হলে তিনি খুবই ব্যথিত হন। তাকে তিনি কখনোই প্রশ্রয় দেন না। এতদ্সত্ত্বেও তাঁর আশে পাশের কেউ কখনো যদি অতি উৎসাহী হয়ে বিচারহীনতা বা কাউকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা এমনকি বিচারবহির্ভূত হত্যার মত কোন স্বেচ্ছাচারী বা বেআইনী কোন কাজের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সুশীল চর্চা বিনষ্ট হতে পারে। এ ধরণের অনৈতিকতার সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কখনোই আপোষ করেন না। এক্ষেত্রে বরাবরের মতই তিনি আপোষহীন নেতা।
পরিশেষে বলতে পারি- যে অর্থে গ্রন্থ সমালোচনা ও পর্যালোচনা করতে হয় সেটার বিচারে উক্ত লেখাটির কোন বিশেষ অবস্থান নাও থাকতে পারে। আমি শুধুমাত্র গ্রন্থের রচয়িতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে সাহস, যে শিক্ষা, চিন্তা ও চেতনার বীজ বপন করেছেন-তার মহিমাকেই তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছি। এ গ্রন্থ দুটি জাতির দিক নির্দেশনা ও রাষ্ট্র দর্শনের মত ভূমিকা পালন করবে যুগে যুগে। তার আবেদন ও প্রাসঙ্গিকতা কখনোই ম্লান হবার নয়। আগামী প্রজন্মের জন্য এ গ্রন্থদ্বয় সাহস ও চেতনার খোরাক হিসেবে কাজ করবে। সর্বোপরি এ গ্রন্থ উন্নয়ন ও পরিবর্তনে অর্থনীতির যোগান ও চাহিদার মত বিশেষ নির্ণায়কের ভূমিকা পালন করবে বলে আমার বিশ্বাস।
লেখক: সাবেক উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, কলামিস্ট ও গবেষক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ