• মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১০:২০ অপরাহ্ন

শীর্ষ সন্ত্রাসী জাকির গ্রেপ্তার, পালিয়ে ছিলেন ২১ বছর

আমার কাগজ ডেস্ক: / ১৯ শেয়ার
প্রকাশিত : শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

দীর্ঘ ২১ বছর পর দেশে ফিরে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে নারায়ণগঞ্জ নগরীর আলোচিত ও অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী বিএনপি নেতা জাকির খান। শনিবার ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব ১১ এর অধিনায়ক তানভীর মাহমুদ পাশা।

তানভীর মাহমুদ পাশা জানান, জাকির বিরুদ্ধে বেশ কয়েটি মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বিদেশে পলাতক ছিলেন। সম্প্রতি দেশে ফিরে আত্মগোপন করেন। গোপন সংবাদের ভিক্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কোন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে বলে জানান তিনি।

পুলিশ ও বিএনপির নেতারা জানিয়েছে, ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জাকির খানের সঙ্গে নাসিম ওসমানের বিরোধ বাধে। পরে জাকির খান বিএনপি নেতা কামালউদ্দিন মৃধার নেতৃত্বে ১৯৯৪ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯৫ সালে দেওভোগ এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী দয়াল মাসুদকে শহরের সোনার বাংলা মার্কেটের পেছনে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে শহরে পরিচিত পান জাকির খান।

১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের শেষ দিকে জাকির খান শহরের খাজা সুপার মার্কেটে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড পেয়ে জেলে যান কিন্তু প্রেসিডেন্টের সাধারণ ক্ষমায় তিনি মুক্ত হন। সে সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মতিন চৌধুরীর নাতি হিসেবে শহরে পরিচিত হয়ে ওঠেন জাকির খান।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার ৭ মাসের মাথায় কাশীপুর বাংলাবাজার এলাকায় এক ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় দ্বিতীয় দফায় জাকির খানের ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হলে আওয়ামী লীগের ৪ বছর ক্ষমতার সময় জাকির খান থাকেন জেলে।

১৯৯৯ সালে স্বল্প সময়ের জন্য জেল থেকে বের হয়ে জাকির খান জেলা ছাত্রদলের সভাপতির পদটি পেয়ে যান। আওয়ামী লীগের শাসনামলের শেষ দিকে ২০০০ সালে শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ থেকে টানবাজার ও নিমতলী পতিতালয় উচ্ছেদ করলে জাকির খানের পরিবারের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙ্গে যায়।

২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও প্রায় ৫ মাস তিনি জেলে থাকেন। ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রয়ারী নারায়ণগঞ্জের তৈমূর আলম খন্দকারের ছোট ভাই তৎকালিন বিএকেএমইএর সহসভাপতি সাব্বির আলম খন্দকারকে হত্যা করা হয়। এ মামলার প্রধান আসামি ছিলেন জাকির খান। এরপর থেকে সে দেশ ছেড়ে পলাতক ছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্ট জারি হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ