• সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৫২ অপরাহ্ন

শিক্ষার্থী ধর্ষণ: সাফাতসহ ৫ জনের সর্বোচ্চ শাস্তি চায় রাষ্ট্রপক্ষ

আমার কাগজ প্রতিবেদকঃ / ৪৫ শেয়ার
প্রকাশিত : সোমবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

রাজধানীর বনানীতে দ্য রেইন ট্রি হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচজনের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।

রোববার (৫ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম মোসাম্মৎ কামরুন্নাহারের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন। যুক্তি উপস্থাপন শেষে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি উপস্থাপন শুরু হলেও তা শেষ না হওয়ায় আগামী ১২ সেপ্টেম্বর বাকি যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন আদালত।

চাঞ্চল্যকর এ মামলায় মোট ৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

২০১৭ সালের ৭ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এমি এ মামলায় পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই বছরের ১৯ জুন একই ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। ওই বছরের ১৩ জুলাই ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক শফিউল আজম পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারের আদেশ দেন।

অভিযোগপত্রে আসামি সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওরফে এইচ এম হালিমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার অন্য তিন আসামি সাফাত আহমেদের বন্ধু সাদমান সাকিফ, দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধেও ওই একই আইনের ৩০ ধারায় ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত আসামিরা মামলার বাদী এবং তার বান্ধবী ও বন্ধুকে আটকে রাখেন। অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে বাদী ও তার বান্ধবীকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যায় আসামিরা। সেখানে বাদীকে সাফাত আহমেদ ও তার বান্ধবীকে নাঈম আশরাফ একাধিকবার ধর্ষণ করেন। আসামি সাদমান সাকিফকে দুই বছর ধরে চেনেন মামলার বাদী। তার মাধ্যমেই ওই ঘটনার ১০-১৫ দিন আগে সাফাতের সঙ্গে দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় হয়। পরে সাফাত তার জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে ওই দুই শিক্ষার্থীকে আমন্ত্রণ জানালে তারা সম্মত হন। আমন্ত্রণ জানানোর সময় তাদের বলা হয়েছিল, বড় অনুষ্ঠান হবে, অনেক লোকজন থাকবে।

ঘটনার রাতে সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী দুই শিক্ষার্থীকে বনানীর ২৭ নম্বর রোডে অবস্থিত হোটেল রেইন ট্রিতে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে তারা অন্য কোনো লোকজন দেখতে পাননি। তবে অন্য দুই তরুণীকে সাফাত ও নাঈম হোটেলের ছাদ থেকে নিচে নিয়ে যেতে দেখতে পান তারা। কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন না দেখে তারা চলে যেতে চাইলেও আসামিরা তাদের গাড়ির চাবি শাহরিয়ারের কাছ থেকে নিয়ে নেন। পরে তাকে মারধর করা হয়। এ পর্যায়ে বাদী ও তার বান্ধবীকে হোটেলের একটি রুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় সাফাত তার গাড়িচালককে ধর্ষণের মুহূর্ত ভিডিও ধারণ করতে বলেন। বাদীকে মারধর করেন নাঈম আশরাফ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

পুরাতন সব সংবাদ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
%d bloggers like this: