• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন

লিবিয়ার জেলখানায় করুণ পরিণতি, ফিরে এসে যা বললেন রাকিবুল শেখ

প্রতিবেদকের নাম / ৭৩ শেয়ার
প্রকাশিত : রবিবার, ২০ মার্চ, ২০২২

নাজমুল কবীর, রাজৈর (মাদারীপুর):
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম স্বরমঙ্গল গ্রামের ভ্যান চালক কালাম শেখের ছেলে মোঃ রাকিবুল শেখ (২৫) ও আমগ্রাম ইউনিয়নের পিরের বাসা এলাকার বাসিন্দা মহিদুল (২৬)।একই সাথে লিবিয়া থেকে ফিরে এসেছে।
রাকিবুল বলে বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে দালালরা আমাকে ইতালি নেওয়ার স্বপ্ন দেখায় এবং সাড়ে ৭ লক্ষ আমাকে ইতালি নিবে। আমার সাথে চুক্তি করে এবং সেই মোতাবেক প্রথমে লেবানন ও সিরিয়া ঘুরিয়ে লিবিয়া নেয়। এ সময় আমার থেকে সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা নেয়। আবার আমাকে লিবিয়া আটকে রেখে নির্যাতন করে ৬ লাখ টাকা নিয়ে গেম করায়। তারপর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি নেওয়ার পথে কোস্টগার্ড আমাদের আটক করে। আটক করার পর আমাদেরকে খামচাখামচি জেলে বন্দী করে রাখে সেইটা ছিলো একটা কসাইখানার ব্লিডিং। সেখানে সাড়ে ৪ মাসসহ মোট ৬ মাস জেলে বন্দি ছিলাম। কোন দিনের আলো দেখতে পাই নাই। সারাদিনে একটা খবজা (পেচানো রুটির মতো) খেতে দিতো। পানি চাইলে মারধর করে।
রাকিবুল আরো বলেন, লিবিয়ায় মোট এক বছর ছিলাম। বাংলাদেশ দুতাবাস অনেক চেষ্টা চালিয়ে আমাদেরকে উদ্ধার করেছে। দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। এ ঘটনায় জড়িত দালাল গোবিন্দপুর গ্রামের রহম বেপারীর ছেলে মেরাজ বেপারী ও রাজৈর পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান, তার বড় ভাই মাসুদ বেপারীর বিচার চাই
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিজস্ব কোন সম্পত্তি না থাকায় অন্যের জায়গায় বসবাস করে রাকিবুল ও তার পরিবার। দাদি বাবা, মা, বড় বোন ও ছোট ভাইকে নিয়ে সংসারের হাল ধরতে ‘জনপ্রিয় বাগদাদ ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি’তে কাজ করতেন। পরে ২০২১ সালের মার্চ মাসে আর্থিকভাবে পারিবারে স্বচ্ছলতা আনার আশায় রাকিবুলকে ধার-দেনা করে ইউরোপের উদ্দেশ্যে পাঠায় পরিবারের লোকজন।
আমাদের লিবিয়া নেয়ার কিছুদিন পরেই কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ইউনিয়নের মো. ছাপতি সাহার ছেলে মো. তোতা সাহা নামে আরেক দালাল ফোন করে গেম করানোর জন্য ৬ লাখ টাকা চায়। সেই টাকাও মিজানুর রহমান কাউন্সিলরের কাছে দিতে বলে। পরে টাকা পরিশোধ শেষে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর দিয়ে অবৈধ পথে ইতালি পাঠানোর সময় লিবিয়ার কোস্টগার্ডের হাতে আটক হয় রাকিবুল।এসময় আটক হওয়া সকলকে খামচাখামচি জেলে বন্দী করে। একইভাবে ভোগান্তির শিকার হয় মহিদুল। পরবর্তীতে বাংলাদেশ দুতাবাস চেষ্টা চালিয়ে লিবিয়ার ওই জেল থেকে রাকিবুল ও মহিদুলসহ ১১৪ জনকে উদ্ধার করে দেশে এনে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন শেষে বাড়ি পাঠায়।

এ ঘটনায় দালালদের কঠোর শাস্তির দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা। এদিকে সাংবাদিকরা বিভিন্ন দপ্তরে ফোন দেওয়ার পর রাকিবুলের বাবা কালাম জানান, দালালরা কিছু টাকা ফেরত দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেছে।

রাজৈর থানার ওসি মো. শেখ সাদিক জানান, এ বিষয়ে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ