• শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ১১:১৯ অপরাহ্ন

লঞ্চটি দ্রুত তীরে ভেড়ালে এত হতাহত হতো না: ফায়ার সার্ভিস

আমার কাগজ ডেস্ক: / ২৭ শেয়ার
প্রকাশিত : রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন লাগার পর নৌযানটি দ্রুত তীরে ভেড়ালে এত হতাহতের ঘটনা ঘটতো না বলে মনে করছে ফায়ার সার্ভিস। এছাড়া লঞ্চটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও কার্যকর ছিল না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

রবিবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন্স অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পুড়ে যাওয়া লঞ্চটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক বলেন, ‘আগুন লাগার পরে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ দ্রুত লঞ্চটি নোঙ্গর করে পাড়ে থামিয়ে রাখলে এত লোকের মৃত্যু হতো না, যেহেতু নদী খুব ছোট। কিন্তু লঞ্চ কর্তৃপক্ষ সেটা করেনি, যার কারণে হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে।’

এই কর্মকর্তা জানান, ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে, তাদের কাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। পুরো তদন্ত শেষ করতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগবে।

জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে যেটা বলতে পারি, এই লঞ্চের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা তেমন কার্যকর ছিল না এবং যারা দায়িত্বে ছিল, তারা এটা ম্যানেজ করতে পারেনি। আমরা যখন ফায়ার ফাইটিংয়ে আসি, তখন আমরা দেখতে পাই যে, সম্পূর্ণ লঞ্চে আগুন জ্বলছে এবং প্রতিটি ফ্লোরেই আগুন জ্বলছিল। জাহাজের সম্মুখভাগ থেকে পেছনের অংশ ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অংশে আগুন জ্বলছিল।’

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এমনিতে নদীর ভেতরে কোনো নৌযানে আগুন লাগলে তা নেভানো সহজ হওয়ার কথা যদি ফায়ার পাম্প ও হোসপাইপের ব্যবস্থা ঠিকঠাক থাকে। কিন্তু অভিযান-১০ লঞ্চের ক্ষেত্রে তা ঘটেনি।’

লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে বলেন, ‘এখানে যারা প্রত্যক্ষদর্শী ছিল এবং যারা আমাদের তথ্য দিতে পারছে, তাদের কাছ থেকে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি এবং এটা পরিদর্শন করছি। এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। আশা করি, দুই সপ্তাহ লাগবে তদন্ত শেষ করতে।’

লঞ্চের মালিকসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

এদিকে এমভি অভিযান-১০ এ অগ্নিকাণ্ডে যাত্রীদের মৃত্যুর ঘটনায় লঞ্চটির মালিক মো. হাম জালাল শেখকে প্রধান আসামি করে বরগুনা আদালতে একটি িমামলা হয়েছে। এতে আরও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

রবিবার সকালে বরগুনার সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আইনজীবী নাজমুল ইসলাম নাসির বাদী হয়ে বরগুনা মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার আবেদন করেন। বেলা ১১টায় আদালতের বিচারক মুহাম্মদ মাহবুব আলম আবেদন গ্রহণ করে থানায় মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণে আদেশ দেন।

মামলার আইনজীবী সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, লঞ্চে আগুনের ঘটনায় মালিকসহ স্টাফদের গাফিলতি সুস্পষ্ট। আলোচিত এ ঘটনায় বাদী সংক্ষুব্ধ হয়ে মামলার আবেদন করেছিলেন। বিজ্ঞ আদালত আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি এজাহার হিসেবে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আদেশ দিয়েছেন।

এর আগে শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে ঝালকাঠি সদর থানায় মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দিয়াকুল গ্রামের স্থানীয় গ্রাম পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তিন তলা বিশিষ্ট লঞ্চটি পাঁচ শতাধিক যাত্রী নিয়ে সদরঘাট থেকে ছেড়ে যায়। রাত তিনটার দিকে ঝালকাঠির গাবখানের কাছাকাছি সুগন্ধা নদীতে থাকা অবস্থায় লঞ্চটিতে আগুন ধরে যায়। পরে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের দিয়াকুল এলাকায় নদীর তীরে লঞ্চটি ভেড়ানো হয়।

আগুন লাগার পরই প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন যাত্রীদের অনেকে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ট্রলার নিয়ে লঞ্চের আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানিয়েছে, রাত ৩টা ২৮ মিনিটে তারা অগ্নিকাণ্ডের খবর পান। এরপর তাদের কর্মীরা ৩টা ৫০ মিনিটে সেখানে পৌঁছে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের চেষ্টায় ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। স্থানীয় বাসিন্দা, কোস্ট গার্ড ও পুলিশ সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা করেন।

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৮০ জনের উপরে। এখনো নিখোঁজ আছেন অনেকেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ