• রবিবার, ২৯ মে ২০২২, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন

রিকশা চালিয়ে এক বছর পর খুঁজে পেলেন দুই মেয়েকে

প্রতিবেদকের নাম / ৫৩ শেয়ার
প্রকাশিত : রবিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২২

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

অবশেষে প্রায় এক বছর পর মেয়েদের মুখ দেখেছেন রিকশাচালক ইদ্রিস আলী। সন্তানদের কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন দিনাজপুরের এই কৃষক। দিনাজপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের অলিগলিতে রিকশাচালক বেশে দুই মেয়ের সন্ধান করছিলেন তিনি।

শনিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে বাবা ও সন্তানদের দেখা হয়। তার আগে বিকালে ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকা থেকে ইদ্রিসের বড় মেয়ে ইতি আক্তার (৯) ও মীম-কে (৫) উদ্ধার করে ফতুল্লা থানা পুলিশ। তারা সেখানে তাদের নানির বাসায় ছিল। থানার মিলনায়তনে ইদ্রিস যখন দুই মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বিলাপ করছিলেন, তার ছোট মেয়ে তখন বাবার কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। বাবার মুখ মনে করতে পারছিল না ছোট্ট মীম। তবে বাবাকে কাছে পেয়ে ছলছল চোখে নির্বাক দাঁড়িয়েছিল ইতি। তবে এখনি আদরের সন্তানদের কাছে পাচ্ছেন না ইদ্রিস। নিয়ম অনুযায়ী আদালত মেয়েদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) নাজমুল হাসান জানান, ইদ্রিসের দুই মেয়েকে খুঁজে পাওয়া গেছে। মেয়ে দুজন তাদের নানির কাছে ছিল। তাদের মা শাহনাজ বেগম এক বছর আগে দুই মেয়েসহ বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে সৌদি আরব চলে যায়। বিদেশ যাওয়ার আগে ইদ্রিস ও শাহনাজের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। শিশু দুইটিকে তার মা নানির কাছে রেখে গেছে। তার নানি পোশাক কারখানায় কাজ করে। দিনাজপুর থেকে ইদ্রিস নারায়ণগঞ্জের অলিগলিতে রিকশা চালিয়ে তার মেয়েদের খোঁজ করছিল। ফতুল্লা থানায় সাধারণ ডায়েরিও করে।

তিনি জানান, আমরা বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনা জানতে পারি আমরা তাদের খোঁজ করতে নানামুখী চেষ্টা শুরু করি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, আমরা একটি মোবাইল নাম্বারের সূত্র ধরে ওই শিশুর দুই নানির সাথে যোগাযোগ স্থাপন করি। পরে আমরা নানা কৌশলে কথা বলে ঠিকানা সংগ্রহ করি। বিকালে তাদের সেখান থেকে থানায় আনা হয়েছে। আমরা মেয়ে দুজনকে আদালতে পাঠাব। আদালত তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে।

দুই মেয়েকে ফিরে পেয়ে ইদ্রিস বলেন, ‘দুই মেয়েগো কাছে পেয়ে অনেকে শান্তি লাগতাছে। যারা আমারে সহযোগিতা করেছেন, তাদের অনেক ধন্যবাদ। আমি আমার মেয়েগো দেখছি- এর চেয়ে বড় পাওয়া আমার আরও কিছু নাই।’

ইদ্রিসের শাশুড়ি আকলিমা বলেন, গত বছর ইদ্রিসের সাথে আমার মেয়ের বিদেশ যাওয়া নিয়া দ্বন্দ্ব হয়। পরে আমার মেয়ে দেশের দিনাজপুর থেকে গাজীপুর গিয়ে গার্মেন্টে চাকরি নেয়। এর কয়েক মাস আগে আমার এখানে নারায়ণগঞ্জের মুসলিম নগরে আসে। এখানেও গার্মেন্টেসে কাজ করে। ২ মাস আগে সে বিদেশে গেছে। তখন ইতি আর মীমকে আমার কাছে দিয়ে যায়। আমি তাদের স্কুলে ভর্তি করেছি। ওরা বড় হলে যদি বাপের কাছে যেতে চায়, আমরা দিয়ে দেব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ