• শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

রাজারবাগ পীরের বিদেশযাত্রা ঠেকাতে পারবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

আমার কাগজ প্রতিবেদকঃ / ৫৭ শেয়ার
প্রকাশিত : রবিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২১

রাজধানীর আলোচিত রাজারবাগ দরবারের পীর দিল্লুর রহমানের বিদেশ যেতে বাধা দিতে পারবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি পীর ও তার তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী একরামুল হক কাঞ্চন।

রবিবার এ বিষয়ে এক আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

রাজারবাগ দরবারের পীর দিল্লুর রহমানসহ চারজনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে গত বৃহস্পতিবার আবেদনটি করা হয়।

আদেশে হাইকোর্ট জানান, রিটকারীদের আইনজীবীরা নিরাপত্তার স্বার্থে পীরের বিরুদ্ধে জিডি করতে পারবেন। জিডি করে এর অনুলিপি আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।

পীর ছাড়া অন্য তিনজন হলেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের গোলম কবিরের ছেলে সাকেরুল কবির, একই জেলার সুধারামের মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে ফারুকুর রহমান এবং কুমিল্লার হোমনার লিয়াকত হোসেন প্রধানের ছেলে মফিজুল ইসলাম।

আইনজীবী এমাদুল হক বশির বলেন, ঢাকার শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, চুরি ডাকাতি, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৪৯টি মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় তিনি এক হাজার ৪৬৫ দিন জেলে খেটেছেন। কিন্তু একটি মামলারও বাদীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বিবেচনায় তিনি অনেক মামলাতে খালাস পেয়েছেন। এর প্রতিকার চেয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন।

হাইকোর্ট গত ১৪ জুন এক আদেশে একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দাখিল করা ৪৯টি মামলার বাদীকে খুঁজে বের করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন। এছাড়া ওই ৪৯টি মামলার বৃত্তান্ত নিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এরপর সিআইডি প্রতিবেদন দাখিল করেন।

সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় সর্বমোট ৪৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলো সম্পর্কে প্রকাশ্য ও গোপনে অনুসন্ধান করে জানা যায়, অধিকাংশ মামলার বাদী, সাক্ষী, ভুক্তভোগীরা কোনো না কোনোভাবে রাজারবাগ দরবার এবং ওই দরবারের পীরের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজারবাগের দরবারের পীর দিল্লুর রহমান এবং তার অনুসারীরা তাদের দরবারের স্বার্থ হাসিলের জন্য নিরীহ জনসাধারণের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করে আসছেন বলে তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ