• রবিবার, ২৯ মে ২০২২, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন

যেভাবে অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি ইমরান খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: / ৩৬ শেয়ার
প্রকাশিত : শনিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২২

পাকিস্তানের পিটিআই এর নেতৃত্বাধীন সরকার প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ঠেকানোর প্রাণান্ত চেষ্টা করেছে। তারপরও দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে ৯ এপ্রিল অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটগ্রহণ করা হবে।

তবে বিরোধী দলীয় নেতারা রাতারাতি এই অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেননি। ইমরান খানের বিরুদ্ধে প্রস্তাবটি দেওয়ার পরিকল্পনার লেগে গেছে কয়েক মাস। এই ঘটনার বীজ বপন করা হয়েছিল আরও অনেক আগে। দেখা যাক কিভাবে ইমরান খান এই অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটাভুটির সম্মুখীন হলেন।

২০২১ সালের শেষ নাগাদ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করার জন্য পিএমএল-এন সুপ্রিমো নওয়াজ শরিফকে সমর্থন করা শুরু করে।

২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর পিপিপির নেতা খুরশীদ শাহ, সংসদে একটি অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য বিরোধীদের সংখ্যা যথেষ্ট থাকবে।

২০২২ সালের ১১ জানুয়ারি পিএমএল-এনের নেতা খাজা আসিফ বলেন,সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে; একটি অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন করা হবে।

২০২২ সালের ১৮ জানুয়ারি পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেন, সেনেট চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করবে না; প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায় বিরোধীরা।

২০২২ সালের ২১ জানুয়ারি আয়াজ সাদিক বলেন, বিরোধী দল প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের জন্য প্রস্তুত, এই প্রস্তাব উত্থাপনের সময়ের ব্যাপারে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পিএমএল-এন ও পিপিপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে। পিএমএল-এন সভাপতি শাহবাজ শরীফ বলেন, দলের সুপ্রিমো নওয়াজ শরিফের নেতৃত্বে পিএমএল-এন এই পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে উভয় দলই বিরোধী দল ও সরকারের মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে।

২০২২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি শাহবাজ শরীফ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমকিউএম-পি এর কাছে অনাস্থা প্রস্তাবের বিকল্প উপস্থাপন করে। এমকিউএম-পি নেতা আমির খান দলের সমন্বয় কমিটির সামনে এই অনুরোধ পেশ করার ঘোষণা দেন।

২০২২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (পিডিএম) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান বিরোধী দলের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার ঘোষণা দেন।

২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি বলেন, সরকার অনাস্থা প্রস্তাবকে রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ করবে।

২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ বিরোধীদের তাদের শিবিরে ১৭২ জন এমএনএ জড়ো করার জন্য চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।

২০২২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি (ইমরান খান যখন রাশিয়া সফরে ছিলেন) প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পারভেজ খট্টক নিশ্চিত ছিলেন যে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করা হবে না।

২০২২ সালের ৮ মার্চ বিরোধীরা অবশেষে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করে।

২০২২ সালের ৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিজেই বলেন পিপিপি কো-চেয়ারম্যান আসিফ আলী জারদারি তার পরবর্তী লক্ষ্য এবং তিনি চান বিরোধীরা তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করুক।

২০২২ সালের ১০ মার্চ তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী জানান, সশস্ত্র বাহিনী সরকারের পাশেই আছে।

২০২২ সালের ১০ মার্চই ইসলামাবাদ পুলিশ পার্লামেন্ট লজের ভিতরে অভিযান চালায়। এসময় বেশ কয়েকজন আনসার-উল-ইসলাম কর্মী ও দুই এমএনএকে গ্রেফতার করে।

২০২২ সালের ১১ মার্চ জেইউআই-এফ কর্মী ও নেতাদের মুক্তির পর, দলের প্রধান ফজলুর রহমান দেশব্যাপী বিক্ষোভ প্রত্যাহার করেন।

২০২২ সালের ১১ মার্চ শেখ রশিদ বলেন , জাতীয় পরিষদের অনাস্থা প্রস্তাবে ভোট দেওয়ার দিন সংসদ ভবন এবং সংসদ লজের নিরাপত্তা আধা-সামরিক রেঞ্জার্স এবং ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি) এর কাছে হস্তান্তর করা হবে।

২০২২ সালের ১১ মার্চই প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তিন প্রধান বিরোধী নেতা – ফজল, জারদারি এবং শাহবাজের ওপর তোপ দাগেন।

২০২২ সালের ১২ মার্চ নওয়াজ শরিফ এবং ক্ষুব্ধ পিটিআই নেতা আলিম খান লন্ডনে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন।

২০২২ সালের ১৩ মার্চ ক্ষমতাসীনদের প্রধান মিত্র এমকিউএন-পি জানায়, তারা অনাস্থা প্রস্তাবের সব ‘বিকল্প’ উন্মুক্ত রাখছে।

২০২২ সালের ১৪ মার্চ পিপিপি এবং এমকিউএম-পি একটি চুক্তিতে আসে এবং দেশের ‘বৃহত্তর স্বার্থে’ একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

২০২২ সালের ১৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন ,দেশের মানুষ ‘তিন কট্টর’ নেতাদের সমর্থন করার চেয়ে তার সঙ্গে পথ চলতে প্রস্তুত।

২০২২ সালের ১৬ মার্চ পাঞ্জাব অ্যাসেম্বলির স্পিকার পারভেজ এলাহি দাবি করেন, ১০-১২ জন সরকারি আইনপ্রণেতা বিরোধীদের ‘নিরাপদ হেফাজতে’ ছিলেন।

২০২২ সালের ১৮ মার্চ জানা যায়, পিটিআই-এর প্রায় ২৪ জন সদস্য সিন্ধু হাউসে অবস্থান করছিলেন; পিটিআই অসন্তুষ্ট এমপিদের কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করার ঘোষণা দেন।

২০২২ সালের ২১ মার্চ সরকার সুপ্রিম কোর্টে ৬৩(এ) ধারার ব্যাখ্যার জন্য একটি রেফারেন্স ফাইল করে।

২০২২ সালের ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দাবি করেন, বিরোধীদের অনাস্থার পদক্ষেপ একটি ‘বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত ষড়যন্ত্রের’ অংশ যা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য পিটিআই ইসলামাবাদে একটি সমাবেশ করেছিল।

২০২২ সালের ২৮ মার্চ জাতীয় পরিষদের বিরোধী দলের নেতা শাহবাজ শরীফ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে একটি অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেন।

২০২২ সালের ২৮ মার্চ নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পারভেজ এলাহির পক্ষে উসমান বুজদার পদত্যাগ করায় পিটিআই পিএমএল-কিউ থেকে সরকারের মিত্র বিএপি বিরোধী দলের সঙ্গে সমর্থনের নিশ্চয়তা পায়।

এর পর একে একে ইমরানের জোট ছাড়তে থাকেন মিত্ররা।

২০২২ সালের ২৮ মার্চ বেলুচিস্তানের এমএনএ মোহাম্মদ আসলাম ভুটানি ক্ষমতাসীন জোট ছাড়েন।

২০২২ সালের ৩০ মার্চ পিটিআই কার্যকরভাবে জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় কারণ এমকিউএম-পি সরকারের সঙ্গ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

২০২২ সালের ৩১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের জন্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ৩ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ