• শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ১২:২৯ পূর্বাহ্ন

মানিক চন্দ্র দের কবিতা

আমার কাগজ ডেস্ক: / ২০৭ শেয়ার
প্রকাশিত : শনিবার, ১০ জুলাই, ২০২১

বড় খেলোয়াড়
— মানিক চন্দ্র দে

জীবাণু সম্পর্কে সতর্কবাণী ছিল
স্রষ্টার, তাঁর পবিত্র গ্রন্থে;
ছিল বেদে, বাইবেলে, কোরআনে,
হয়তো বা আরও অনেক গ্রন্থে।
মানুষ উদ্ধতভাবে অবজ্ঞা করেছে সব ।
স্রষ্টা বলেছিলেন, সংক্রামক ব্যাধি
হলে কিছুদিন আলাদা থাক তোমরা।
ঈশ্বর বলেছিলেন, বেপরোয়া হয়ো না।
সীমা লংঘনকারীকে পছন্দ করেন না
আল্লাহ, বলেছিলেন তাঁর প্রেরিত পুরুষ।
তবু মানুষ বেপরোয়া হয়েছে,
সীমা লংঘন করেছে।
তাই স্রষ্টার শাস্তি অনিবার্যরূপে
প্রাপ্য তার।

মানুষ বাঁচতে চায় নিজেরা মেরে মরে,
জয়জয়ন্তী পতাকা কাড়াকাড়ি করে।
জীবাণুরা বাঁচে দলবদ্ধ হয়ে,
মানুষেরে ঘিরে।
তাহলে ডারউইনের ভাষায় কে বাঁচবে?
মানুষ নাকি জীবাণু?

যুগে যুগে মানুষের বড় শত্রু কে?
কার অশ্বের খুরে তছনছ হয়েছিল
স্বর্গোদ্যান, ফুল বাগান!
সাকির কম্পিত হাতের সুরা
ছিটকে পড়েছিল আসরে।
ছিঁড়েছিল কারা বাঈজী’র নূপুর?

মহামারীতে কত মানুষ
প্রাণ হারায়?
পররাজ্য গ্রাসে, বিশ্বযুদ্ধে বা দাঙ্গায়
যে রক্ত ঝরে তাকি পারে
জীবাণুরা ঝরাতে?
দুটি এটম বোমে হিরোশিমা
আর নাগাসাকিতে কত লোকের
ঝরেছিল প্রাণ?
ইতিহাসে লেখা আছে প্রমাণ।

একটি হাইড্রোজেন বোমা ফাটলে
যে মানুষ আর সম্পদ হবে বিলীন
সাধ্য আছে কি তার চেয়ে বেশি
বিনাশের, কোন জীবাণুর?

করোনার জীবাণুরা আজ বাঁচতে চায়।
মানুষের শরীরের ভেতর।
কে তারে বাঁচিয়ে রাখে?
অর্বাচীন মানুষেরা নয় কি?
তাইতো যুগে যুগে মানুষের বড় শত্রু
আজ মানুষ নিজেই।

সভ্যতার বিরুদ্ধে সভ্যতাকে
বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানকে
ধর্মের বিরুদ্ধে ধর্মকে
ব্যবহার করার কূট খেলোয়াড়
মানুষ, জীবাণুরা নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ